২০২৮ সালে একই বছরে দুইবার শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপন করতে পারেন বাঙালি হিন্দুরা। পঞ্জিকার দুটি ভিন্ন পদ্ধতিতে তিথি নির্ধারণের কারণে সেপ্টেম্বরে একবার এবং অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে আরেকবার দুর্গাপূজার আয়োজন হতে পারে। দুই পূজার মধ্যে ব্যবধান থাকবে ১৫ দিনের বেশি। এসব তথ্য আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলা অঞ্চলে দুর্গাপূজার তিথি নির্ধারণে মূলত দুটি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এগুলো হলো বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত ও সূর্য সিদ্ধান্ত। এই দুই পদ্ধতিতে তিথি গণনার পার্থক্যের কারণেই ২০২৮ সালে পূজার সময়সূচিতে এমন ভিন্নতা দেখা দেবে।
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পদ্ধতিতে মহাজাগতিক অবস্থান ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনার ভিত্তিতে তিথি নির্ধারণ করা হয়। অন্যদিকে, সূর্য সিদ্ধান্ত অনুসারেও গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান ও গণনার ভিত্তিতে তিথি নিরূপণ করা হয়। পদ্ধতি দুটির গণনায় পার্থক্য থাকায় একই উৎসবের তারিখেও ব্যবধান তৈরি হতে পারে।
সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত অনুসারে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। আর সূর্য সিদ্ধান্ত অনুসরণ করলে পূজা হবে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে। ফলে একই বছরে দুই দফায় শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন দেখা যেতে পারে।
বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন নিজ নিজ অনুসৃত পঞ্জিকা অনুযায়ী পূজার আয়োজন করে। বেলুড় মঠ, রামকৃষ্ণ মিশন ও ভারত সেবাশ্রম সংঘের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে। অন্যদিকে, অনেক বনেদি বাড়ি, বারোয়ারি ও সর্বজনীন পূজার আয়োজকেরা সূর্য সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পূজার তিথি নির্ধারণ করেন।
এক বছরে দুইবার দুর্গাপূজা হওয়ার ঘটনা অবশ্য একেবারে নজিরবিহীন নয়। এর আগে ১৯৮০ সালেও দুই সিদ্ধান্ত অনুসারে পৃথক সময়ে দুর্গাপূজার আয়োজন হয়েছিল। শাস্ত্রীয় বিবেচনায় দুটি পদ্ধতি অনুসারেই পূজা আয়োজনকে যথাযথ বলে মনে করা হয়।
তবে দুই সময়ে পূজা অনুষ্ঠিত হলেও সরকারি ছুটি দুই দফায় দেওয়া হবে না। অফিস-আদালত, স্কুল ও কলেজে ছুটি থাকবে একবারই। সেটি হবে বারোয়ারি ও সর্বজনীন পূজার সময়সূচির সাথে মিল রেখে।


