জুমার দিন মুসলমানদের জন্য বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। এ দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো জুমার খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা। খুতবা চলাকালে কথা বলা কিংবা এমন কোনো কাজে ব্যস্ত থাকা, যা খুতবা শোনার মনোযোগ নষ্ট করে, তা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা রয়েছে। এমনকি কাউকে চুপ থাকতে বলার ক্ষেত্রেও সতর্ক করা হয়েছে। কারণ, খুতবার সময় নীরবতা বজায় রাখা এবং ইমামের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে অনেক সময় দেখা যায়, কোনো মুসল্লি জুমার আগের সুন্নত নামাজ আদায় করছেন, এমন সময় ইমাম খুতবা শুরু করেন। তখন প্রশ্ন ওঠে, নামাজ মাঝপথে ছেড়ে দিতে হবে, নাকি দ্রুত শেষ করে খুতবা শোনার জন্য বসতে হবে? এ পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়ে মুসল্লিদের মধ্যে দ্বিধা দেখা যায়।
ইসলামী আলোচক মুফতি রেজাউল করীম আবরার তার ইউটিউব আলোচনায় হাদিস ও ফিকহের বিভিন্ন গ্রন্থের আলোকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার আলোচনায় উঠে আসা মত অনুযায়ী, নামাজের কোন পর্যায়ে রয়েছেন, তার ওপর ভিত্তি করে করণীয় নির্ধারিত হতে পারে।
খুতবা চলাকালে কথা বলা ও অন্য কাজে ব্যস্ত থাকার বিধান
জুমার খুতবা নামাজের আগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কার্যক্রম। এ সময় মুসল্লিদের মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা এবং অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা উচিত। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, খুতবার সময় কাউকে চুপ থাকতে বলাও অনর্থক কাজ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
এ কারণে খুতবা শুরু হয়ে গেলে অন্য কাজ বাদ দিয়ে মনোযোগ দিয়ে তা শোনার প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। তবে কেউ আগে থেকেই নামাজে থাকলে তার করণীয় কী হবে, সে বিষয়ে ফিকহি মতামত বিবেচনা করা জরুরি।
সুন্নত নামাজ চলাকালে খুতবা শুরু হলে করণীয়
মুফতি রেজাউল করীম আবরারের আলোচনায় উল্লিখিত ফিকহি মত অনুযায়ী, এ পরিস্থিতিতে নামাজের পর্যায় বিবেচনায় নিয়ে করণীয় নির্ধারণ করা হয়।
১. প্রথম রাকাতে থাকলে
কেউ জুমার আগের সুন্নত নামাজ শুরু করার পর প্রথম রাকাতে থাকা অবস্থায় খুতবা শুরু হলে, আলোচনায় উল্লেখ করা মত অনুযায়ী, নামাজ মাঝপথে না ছেড়ে সংক্ষেপে দুই রাকাত পূর্ণ করে সালাম ফেরানোর কথা বলা হয়েছে। এরপর দ্রুত খুতবা শোনার জন্য বসে পড়তে হবে।
২. তৃতীয় রাকাতে উঠে গেলে
কেউ যদি চার রাকাত সুন্নত নামাজের প্রথম দুই রাকাত শেষ করে তৃতীয় রাকাতে উঠে যান এবং এ সময় খুতবা শুরু হয়, তাহলে আলোচনায় উপস্থাপিত মত অনুযায়ী, চার রাকাত নামাজ সংক্ষেপে পূর্ণ করে সালাম ফেরানোর কথা বলা হয়েছে। এরপর সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনতে হবে।
ফিকহি মতভেদ সম্পর্কে সতর্কতা
জুমার খুতবা শুরু হওয়ার পর আগে থেকে শুরু করা সুন্নত বা নফল নামাজ কীভাবে শেষ করতে হবে, এ বিষয়ে মাজহাবভেদে ফিকহি ব্যাখ্যায় পার্থক্য থাকতে পারে। তাই ওপরের বিধানকে সব মাজহাবের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। বিশেষ করে হানাফি মাজহাব অনুসরণকারী মুসল্লিদের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য আলেমের কাছ থেকে নিজ মাজহাবের অনুসৃত বিধান জেনে নেওয়া উত্তম।
সব মিলিয়ে, জুমার খুতবা শুরু হলে অপ্রয়োজনীয় কাজ ও কথাবার্তা থেকে বিরত থেকে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আর নামাজ চলমান থাকলে তা কীভাবে শেষ করতে হবে, সে বিষয়ে নিজের অনুসৃত মাজহাবের নির্ভরযোগ্য নির্দেশনা মেনে চলা উচিত।


