মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। বিপদে-আপদে, আনন্দে কিংবা জীবনের নানা প্রয়োজনে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন মুসলমানরা। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে দোয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও বিভিন্ন সময়ে বিশেষ কিছু দোয়া পড়তেন, যা মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
১. দ্বীনের ওপর অবিচল থাকার দোয়া
হজরত উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) যে দোয়াটি বেশি পড়তেন, তার মধ্যে একটি হলো-
আরবি:
يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ
উচ্চারণ: ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুব, সাব্বিত কালবি আলা দীনিক।
অর্থ: হে অন্তর পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তোমার দ্বীনের ওপর অবিচল রাখো।
(জামে তিরমিজি: ৩৫২২)
২. আল্লাহর পবিত্রতা ও প্রশংসা ঘোষণার দোয়া
হজরত জুওয়াইরিয়া (রা.) বর্ণনা করেন, একদিন ফজরের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) তার কাছ থেকে বের হয়ে যান। পরে চাশতের সময় ফিরে এসে তাকে আগের মতো ইবাদতে মগ্ন দেখতে পান। তখন নবীজি (সা.) জানান, তিনি এর মধ্যে চারটি বাক্য তিনবার পড়েছেন, যা তার দীর্ঘ সময়ের ইবাদতের তুলনায় ওজনে বেশি হতে পারে।
আরবি:
سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَا نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ
উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, আদাদা খালকিহি, ওয়া রিদা নাফসিহি, ওয়া জিনাতা আরশিহি, ওয়া মিদাদা কালিমাতিহি।
অর্থ: আল্লাহর প্রশংসাসহ তার পবিত্রতা ঘোষণা করছি—তার সৃষ্টির সংখ্যার সমপরিমাণ, তার সন্তুষ্টির পরিমাণ, তার আরশের ওজনের সমপরিমাণ এবং তার বাণী লেখার কালির পরিমাণ।
(সহিহ মুসলিম: ২৭২৬; প্রচলিত কিছু সংস্করণে হাদিস নম্বর ভিন্ন হতে পারে)
৩. তাসবিহ, ইস্তিগফার ও তওবার দোয়া
হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, জীবনের শেষ সময়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বেশি বেশি যে দোয়াটি পড়তেন, তা হলো—
আরবি:
سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি।
অর্থ: আল্লাহর প্রশংসাসহ তার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইছি এবং তার কাছেই তওবা করছি।
(সহিহ মুসলিম: ৪৮৪)

