ফুটবল ক্যারিয়ারের অসামান্য সাফল্য এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড ফর স্পোর্টস’ গ্রহণ করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সমাজের জন্য তার কাজও এই সম্মান পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্পেনের উত্তরাঞ্চলীয় আস্তুরিয়াস অঞ্চলের রাজধানী ওভিয়েদোতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মেসির হাতে পুরস্কার তুলে দেন স্পেনের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী রাজকন্যা লিওনর। অনুষ্ঠানে মেসি পৌঁছানোর সময় ব্যাগপাইপ ও ঢোল বাজিয়ে তাকে স্বাগত জানানো হয়। আর্জেন্টিনার জার্সি পরা সমর্থকেরাও তার নাম ধরে স্লোগান দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
৩৯ বছর বয়সী মেসিকে গত জুনে এই পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়। তখন বিচারকমণ্ডলী তাকে ‘সর্বকালের সবচেয়ে সফল ফুটবলার’ হিসেবে অভিহিত করে। একই সাথে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য তার সামাজিক উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করা হয়।
পুরস্কার তুলে দেওয়ার সময় মেসির ফুটবলীয় দক্ষতা ও দলগত মানসিকতার প্রশংসা করেন রাজকন্যা লিওনর। তার ভাষায়, মেসি অসাধারণ ঘটনাকে প্রতিদিনের ঘটনায় পরিণত করেছেন। খেলার পরিস্থিতি দ্রুত বুঝে নিয়ে সেকেন্ডের ভগ্নাংশের মধ্যে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে তিনি তা সম্ভব করেছেন। পাশাপাশি ব্যক্তিগত অহংকারের চেয়ে সব সময় দলীয় চেতনাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
১৯৮১ সালে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার চালু হয়। মর্যাদার কারণে এটিকে অনেক সময় স্পেনের ‘নোবেল পুরস্কার’ বলেও উল্লেখ করা হয়। শিল্প, বিজ্ঞান ও ক্রীড়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিবছর এ পুরস্কার দেওয়া হয়। এর সাথে থাকে ৫০ হাজার ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭০ লাখ টাকার সমান। মানুষের সহাবস্থান, পারস্পরিক সংহতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মান জানানো এই পুরস্কারের অন্যতম লক্ষ্য।
শুক্রবারের অনুষ্ঠানে মেসি ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য পুরস্কার গ্রহণ করেন ব্রিটিশ লেখক জুলিয়ান বার্নস, মার্কিন নভোচারী ক্রিস্টিনা কোচ এবং পাঙ্ক সংগীতশিল্পী প্যাটি স্মিথ।
এর আগে ক্রীড়া বিভাগে এই সম্মান পেয়েছেন টেনিস তারকা সেরেনা উইলিয়ামস ও রাফায়েল নাদাল। এ তালিকায় রয়েছেন ম্যারাথনে রেকর্ডধারী এলিউদ কিপচোগে এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্কিয়ার লিন্ডসে ভনও।



