ফুটবলের ব্যক্তিগত পুরস্কারগুলোর মধ্যে অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যালন ডি’অর নিয়ে এবার আলোচনার কেন্দ্রে বার্সেলোনার লামিনে ইয়ামাল ও বায়ার্ন মিউনিখের হ্যারি কেইন। ইয়ামালের সামনে প্রথমবারের মতো এই পুরস্কার জয়ের হাতছানি, অন্যদিকে ক্যারিয়ারের বড় স্বীকৃতির অপেক্ষায় ইংলিশ স্ট্রাইকার কেইন। লন্ডনের ঐতিহাসিক প্যালাডিয়াম থিয়েটারে বসবে ব্যালন ডি’অরের ৭০তম আসর। বাংলাদেশ সময় ২৭ অক্টোবর রাত ২টায় শুরু হওয়ার কথা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভো ও কাদেনা কোপের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরস্কার জয়ের আশায় পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের নিয়ে লন্ডনে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন ইয়ামাল। তার সাথে মা-বাবা, সাথী, বন্ধু এবং ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যদের থাকার কথা।
গত বছরও ব্যালন ডি’অর জয়ের আলোচনায় ছিলেন ইয়ামাল। তবে শেষ পর্যন্ত উসমান ডেম্বেলের কাছে হারতে হয় তাকে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৫ ম্যাচে ২৪ গোল করেন এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। পাশাপাশি তার অ্যাসিস্ট ছিল ১৭ থেকে ১৮টি। ক্লাবের একাধিক শিরোপা জয়ের পথেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে এবারও ব্যালন ডি’অরের অন্যতম আলোচিত প্রার্থী ইয়ামাল।
অন্যদিকে পুরস্কারের ফলাফল নিয়ে নিজের ও পরিবারের অপেক্ষার চাপের কথা জানিয়েছেন কেইন। ইংল্যান্ডের অধিনায়কের ভাষ্য, তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা আগেভাগে ফল জানতে পারলে স্বস্তি পেতেন। ফল ঘোষণার অপেক্ষা যে সবার জন্যই চাপের, সেটিও উল্লেখ করেন তিনি। তবে বিজয়ীর নাম গোপন রেখে অনুষ্ঠানের উত্তেজনা ধরে রাখার বিষয়টি বুঝতে পারছেন কেইন। তাই অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে চান তিনি।
২০২৫-২৬ মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ডের হয়ে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল করেছেন কেইন। স্প্যানিশ দৈনিক মার্কার হিসাব অনুযায়ী, বায়ার্নের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তার গোল ৬১টি, সাথে রয়েছে সাতটি অ্যাসিস্ট। বুন্দেসলিগায় ৩৬ গোল করে টানা তৃতীয়বারের মতো সর্বোচ্চ গোলদাতা হন তিনি। জেতেন ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু। পাশাপাশি বায়ার্নের হয়ে জার্মান সুপার কাপ, বুন্দেসলিগা ও জার্মান কাপ জয়ের স্বাদ পান।
চ্যাম্পিয়নস লিগেও ১৩ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন কেইন। ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানের আগে স্প্যানিশ দৈনিক মার্কার বর্ষসেরা ফুটবলারের স্বীকৃতিও পেয়েছেন তিনি।
মার্কার ২২৬ সদস্যের জুরির ভোটে কেইনের সংগ্রহ ৩ হাজার ৯৬২ পয়েন্ট। ইয়ামাল পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৩৭ পয়েন্ট। দুই তারকার ব্যবধান মাত্র ২৫ পয়েন্ট। ৩ হাজার ৪৪০ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফলে ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে ইয়ামাল ও কেইনকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।



