...|...|...

স্বাস্থ্য

৫০০ উপজেলায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা চালুর পরিকল্পনা সরকারের

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:০৫
Shares
৫০০ উপজেলায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা চালুর পরিকল্পনা সরকারের

ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ৫০০টি উপজেলায় কমিউনিটি মেন্টাল হেলথ প্রকল্প সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে ২০টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই সেবা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত ‘সামাজিক মানসিক স্বাস্থ্য: অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজকল্যাণের সোপান’ শীর্ষক সেমিনারে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে বড় শহর ও বিশেষায়িত হাসপাতালের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চায় সরকার।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর যুব কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব সাইদুর রহমান। আঁচল ফাউন্ডেশন, হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (এইচআরডিসি), লিডোসহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকট হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ ও সংঘাত, জীবনযাত্রার দ্রুত পরিবর্তন, একাকিত্ব এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোর-কিশোরীরা এসব সমস্যায় বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

প্রযুক্তির কারণে মানুষ পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকলেও বাস্তবে অনেকেই একাকিত্বে ভুগছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি সামাজিক সংযোগ ও সহমর্মিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।

মানুষের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ড. মুহিত বলেন, যেকোনো সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা মৌলিক দায়িত্ব। মানুষের অধিকার ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হলে সমাজে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি এড়াতে নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে।

মানসিক স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পকে শুধু ভবন নির্মাণ ও ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। সেবার মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল গড়ে তোলা জরুরি।

তিনি জানান, ঢাকার জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও পাবনার মানসিক হাসপাতালের সেবার সাথে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে কমিউনিটি মেন্টাল হেলথ প্রকল্প সাজানো হয়েছে।

উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দিতে দক্ষ কর্মীর সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, শুধু উচ্চতর ডিগ্রিধারী বিশেষজ্ঞ তৈরির ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করতে সক্ষম প্রশিক্ষিত কর্মীও গড়ে তুলতে হবে।

এ জন্য প্রকৌশল শিক্ষার মতো মানসিক স্বাস্থ্য খাতেও দুই থেকে তিন বছর মেয়াদি ভোকেশনাল ডিপ্লোমা ও কারিগরি কোর্স চালুর প্রস্তাব দেন প্রতিমন্ত্রী। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) কাঠামোর আওতায় মধ্যম পর্যায়ের একটি প্রশিক্ষিত জনবল গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এসব কর্মী উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কাউন্সেলিং এবং মানসিক সহায়তা দিতে ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ খাতের উন্নয়ন শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একক দায়িত্ব নয়। এর সাথে সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং আইন মন্ত্রণালয়েরও সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে।

মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের মানবাধিকার সুরক্ষা, দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন এবং সামাজিক কুসংস্কার ও নেতিবাচক ধারণা দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ লক্ষ্যে কার্যকর নীতি প্রণয়ন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং কমিউনিটিভিত্তিক কার্যক্রম জোরদার করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।