রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ। তফশিল ঘোষণার পর থেকেই দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নির্বাচিত হতে কী কী যোগ্যতা প্রয়োজন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।
সংবিধান অনুযায়ী, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি হবেন রাষ্ট্রের প্রধান এবং আইন অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে তিনি নির্বাচিত হবেন।
গত ২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ছাড়ার পর পদটি শূন্য হয়। বর্তমানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা নির্বাচন কমিশনের বাধ্যবাধকতা।
ইসি ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। ১৬ আগস্ট হবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা। আর ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্যতা কী?
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে একজন ব্যক্তিকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। একই সঙ্গে তাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। এছাড়া প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে।
তবে কেউ যদি সংবিধান অনুযায়ী অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হয়ে থাকেন, তাহলে তিনি পুনরায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের ক্ষেত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হয়। প্রার্থীকেও নিজের সম্মতিসূচক স্বাক্ষর দিতে হয়।
যদি যাচাই-বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর একজন বৈধ প্রার্থী থাকেন, তাহলে তাকে ভোট ছাড়াই নির্বাচিত ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। তবে একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সাধারণ নাগরিক কি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে পারেন?
সংবিধানের দৃষ্টিতে কোনো ব্যক্তি যদি রাষ্ট্রপতি হওয়ার সব যোগ্যতা পূরণ করেন, তাহলে তাকে প্রার্থী করার সুযোগ রয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাধারণ নাগরিক সরাসরি ভোট দিতে পারেন না। সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
তাই কোনো সাধারণ নাগরিকের জন্য সাংবিধানিকভাবে সুযোগ থাকলেও তাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যদের সমর্থন পেতে হবে। যদিও দেশের ইতিহাসে সাধারণ নাগরিক থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার নজির নেই।


