...|...|...

খেলা

বিশ্বকাপের খ্যাতিই কাল হলো ভোজিনিয়ার, ফিরতে চান আগের জীবনে

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:০৩
Shares
বিশ্বকাপের খ্যাতিই কাল হলো ভোজিনিয়ার, ফিরতে চান আগের জীবনে

ভোজিনিয়া। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের চমকপ্রদ সাফল্যের অন্যতম নায়ক হয়ে রাতারাতি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছিলেন গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। কিন্তু সেই আকস্মিক খ্যাতিই এখন তার ব্যক্তিগত জীবনে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের পর পাওয়া ব্যাপক জনপ্রিয়তায় আগের শান্ত ও স্বাভাবিক জীবন হারিয়েছেন তিনি। তাই সুযোগ পেলে বর্তমান জীবনের চেয়ে আগের সাধারণ জীবনকেই বেছে নেবেন।

চিলির ক্লাব কোলো কোলোতে খেলা ভোজিনিয়া সম্প্রতি ‘দ্য অবজারভার’ কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের অনুভূতির কথা জানান। বিশ্বকাপের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অনুসারীর সংখ্যা ৫৬ হাজার থেকে দ্রুত বেড়ে মিলিয়নে পৌঁছে যায়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাকে যদি আজকের এই জীবন আর আগের জীবনের মধ্যে বেছে নিতে বলা হয়, তবে আমি নির্দ্বিধায় আগের জীবনটাই বেছে নেব।’

বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের দুর্দান্ত যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ভোজিনিয়ার। শেষ ৩২ এর লড়াইয়ে শক্তিশালী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। তার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয় ফুটবলবিশ্ব।

বিশ্বকাপের পর স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের জনপ্রিয়তা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঘটনাটিও স্মরণ করেন ভোজিনিয়া। তিনি বলেন, ‘দলের ক্যাটারিং স্টাফের এক সদস্য হুট করে আমার কাছে এসে বলল, আমার নাকি ১০ লাখ ফলোয়ার হয়ে গেছে! সে কী নিয়ে কথা বলছে, প্রথমে আমি কিছুই বুঝতে পারিনি। ভেবেছিলাম হয়তো মজা করছে, কিন্তু সে বারবার জোর দিয়ে বলছিল। এরপর যখন মিক্সড জোনে সাক্ষাৎকার দিতে গেলাম, 'কাজ টিভি'র এক সাংবাদিক আমাকে জিজ্ঞেস করলেন বাইরে কী তোলপাড় চলছে তা আমি জানি কি না। তারপর তিনি তার ফোনের স্ক্রিনটা আমাকে দেখালেন, আর তখনই নিজের চোখে দেখলাম আমার ফলোয়ার সংখ্যা সত্যিই ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে!’

তবে জনপ্রিয়তার এই বিস্ফোরণকে পুরোপুরি ইতিবাচকভাবে দেখছেন না কেপ ভার্দের এই গোলরক্ষক। অতিরিক্ত পরিচিতির কারণে ব্যক্তিগত পরিসর সংকুচিত হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আমার জীবনের শান্ত পরিবেশটা হারিয়ে ফেলেছি। আগের মতো এখন আর কোনো প্রাইভেসি নেই বললেই চলে। এখন বাইরে কোথাও বের হলে কিংবা কোনো রেস্তোরাঁয় গেলে সবসময়ই কেউ না কেউ এসে ছবি তুলতে চায়, অটোগ্রাফ চায়। আর সবচেয়ে বাজে ব্যাপার হলো অনেকে আবার অনুমতি ছাড়াই ভিডিও করা শুরু করে! আমার জীবনে এটাই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন, আর এতে আমার আসলে কিছুই করার নেই।’

শুধু ভোজিনিয়া নিজেই নন, তার পরিবারের সদস্যদেরও নতুন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সমর্থকেরা মাঝেমধ্যে কেপ ভার্দেতে তার বাবা-মায়ের বাড়িতে গিয়ে তার মায়ের সাথে কথা বলা কিংবা ছবি তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে তার বাবা এসব পরিস্থিতি থেকে নিজেকে কিছুটা দূরে রাখতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকায় এই পরিস্থিতিতে সরাসরি সহযোগিতা করতে না পারার আক্ষেপও রয়েছে ভোজিনিয়ার। তিনি বলেন, ‘আমি তো সেখানে ওদের পাশে নেই, তাই কোনো সাহায্যও করতে পারছি না। এখন এই পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়া আর সমর্থকদের থামানোর জন্য একটা সীমা নির্ধারণ করাটা ওদেরই শিখে নিতে হবে।’

বিশ্বকাপে আলো ছড়ানোর পর ভোজিনিয়া ‘লেভ ইয়াশিন’ অ্যাওয়ার্ডের সংক্ষিপ্ত তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছেন। তবে সম্প্রতি আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের বাছাইপর্বে মালির বিপক্ষে ম্যাচে একটি ভুলের কারণে আবারও আলোচনায় আসেন তিনি। তার ভুল থেকেই গোল হজম করে কেপ ভার্দে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ৩-১ ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়ে দলটি।