ওয়ানডে ক্রিকেটে ব্যাটিংয়ের ইতিহাসে নিজেদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখেছেন বহু কিংবদন্তি। চার-ছক্কার রোমাঞ্চ, দীর্ঘ ক্যারিয়ার আর ধারাবাহিক ব্যাটিং দিয়ে তারা গড়েছেন অসংখ্য রেকর্ড। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় যেমন আছেন শচীন টেন্ডুলকার, তেমনি আধুনিক ক্রিকেটের বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মাও জায়গা করে নিয়েছেন।
২০২৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় সবার ওপরে ভারতের শচীন টেন্ডুলকার। তার রান ১৮ হাজার ৪২৬। আর ১৫ হাজার ৮০ রান নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন বিরাট কোহলি।
১. শচীন টেন্ডুলকার (ভারত)
ওয়ানডে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক শচীন টেন্ডুলকার। ৪৬৩ ম্যাচে ৪৫২ ইনিংস খেলে তার সংগ্রহ ১৮ হাজার ৪২৬ রান। ব্যাটিং গড় ৪৪.৮৩। ওয়ানডেতে তার সেঞ্চুরি ৪৯টি এবং ফিফটি ৯৬টি। সর্বোচ্চ ইনিংস ২০০*।
দুই দশকেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে টেন্ডুলকার ওয়ানডেতে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করা ব্যাটারও। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গওয়ালিয়রে অপরাজিত ২০০ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।
২. বিরাট কোহলি (ভারত)
তালিকার দুই নম্বরে আছেন বিরাট কোহলি। ৩১৫ ম্যাচে ৩০৩ ইনিংস খেলে তার রান ১৫ হাজার ৮০। ব্যাটিং গড় ৫৮.৫৯—শীর্ষ ১০-এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি। তার ওয়ানডে সেঞ্চুরি ৫৪টি এবং ফিফটি ৭৯টি। সর্বোচ্চ ১৮৩।
২০২৫ সালে কুমার সাঙ্গাক্কারাকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওয়ানডে রান সংগ্রাহক হন কোহলি। এরপরও তিনি রান বাড়িয়ে ব্যবধান আরও বাড়িয়েছেন।
৩. কুমার সাঙ্গাকারা (শ্রীলঙ্কা)
শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি কুমার সাঙ্গাক্কারা রয়েছেন তৃতীয় স্থানে। ৪০৪ ম্যাচে ৩৮০ ইনিংসে তার সংগ্রহ ১৪ হাজার ২৩৪ রান। গড় ৪১.৯৮। ওয়ানডেতে ২৫টি সেঞ্চুরি ও ৯৩টি ফিফটি করেছেন তিনি। সর্বোচ্চ ১৬৯ রান।
উইকেটকিপার-ব্যাটার হিসেবেও তিনি ওয়ানডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ২০১৫ বিশ্বকাপে টানা চার ম্যাচে সেঞ্চুরি করে অনন্য রেকর্ডও গড়েছিলেন সাঙ্গাক্কারা।
৪. রিকি পন্টিং (অস্ট্রেলিয়া)
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং ১৩ হাজার ৭০৪ রান নিয়ে আছেন চতুর্থ স্থানে। ৩৭৫ ম্যাচে ৩৬৫ ইনিংসে তার ব্যাটিং গড় ৪২.০৩। সেঞ্চুরি ৩০টি, ফিফটি ৮২টি এবং সর্বোচ্চ ইনিংস ১৬৪ রান।
পন্টিংয়ের নেতৃত্বেই অস্ট্রেলিয়া ২০০৩ ও ২০০৭ বিশ্বকাপ জিতেছিল। ব্যাটার হিসেবেও তিনি ছিলেন দলের অন্যতম প্রধান ভরসা।
৫. সনাথ জয়াসুরিয়া (শ্রীলঙ্কা)
আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের প্রতীক হিসেবে পরিচিত সনাথ জয়াসুরিয়া রয়েছেন পঞ্চম স্থানে। ৪৪৫ ম্যাচে ৪৩৩ ইনিংসে তার রান ১৩ হাজার ৪৩০। গড় ৩২.৩৬। তার ওয়ানডে সেঞ্চুরি ২৮টি এবং ফিফটি ৬৮টি। সর্বোচ্চ ১৮৯।
ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বাঁহাতি স্পিনেও অবদান রেখেছেন জয়াসুরিয়া। ওয়ানডেতে তার ৩২৩ উইকেটও রয়েছে।
৬. মাহেলা জয়াবর্ধনে (শ্রীলঙ্কা)
শ্রীলঙ্কার আরেক কিংবদন্তি মাহেলা জয়াবর্ধনে আছেন ষষ্ঠ স্থানে। ৪৪৮ ম্যাচে ৪১৮ ইনিংসে তিনি করেছেন ১২ হাজার ৬৫০ রান। ব্যাটিং গড় ৩৩.৩৭। সেঞ্চুরি ১৯টি ও ফিফটি ৭৭টি। সর্বোচ্চ ১৪৪ রান।
২০১১ বিশ্বকাপের ফাইনালেও তার ব্যাট থেকে এসেছিল দুর্দান্ত সেঞ্চুরি।
৭. রোহিত শর্মা (ভারত)
শীর্ষ ১০-এ বর্তমানে থাকা সক্রিয় ব্যাটারদের অন্যতম রোহিত শর্মা। ২৮৮ ম্যাচে ২৮০ ইনিংসে তার সংগ্রহ ১১ হাজার ৮৯৫ রান। ব্যাটিং গড় ৪৮.৯৫। তার ওয়ানডে সেঞ্চুরি ৩৪টি ও ফিফটি ৬২টি। সর্বোচ্চ ইনিংস ২৬৪ রান।
ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ডও রোহিতের দখলে। ২০১৪ সালে কলকাতায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৬৪ রান করেন তিনি। এ ছাড়া ওয়ানডেতে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি করা একমাত্র ব্যাটারও রোহিত।
৮. ইনজামাম-উল-হক (পাকিস্তান)
পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ইনজামাম-উল-হক ১১ হাজার ৭৩৯ রান নিয়ে তালিকার অষ্টম স্থানে। ৩৭৮ ম্যাচে ৩৫০ ইনিংসে তার গড় ৩৯.৫২। সেঞ্চুরি ১০টি ও ফিফটি ৮৩টি। সর্বোচ্চ অপরাজিত ১৩৭ রান।
তার সময়ের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মিডল অর্ডার ব্যাটার হিসেবে দীর্ঘদিন পাকিস্তানকে সার্ভিস দিয়েছেন ইনজামাম।
৯. জ্যাক ক্যালিস (দক্ষিণ আফ্রিকা)
দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি অলরাউন্ডার জ্যাক ক্যালিস রয়েছেন নবম স্থানে। ৩২৮ ম্যাচে ৩১৪ ইনিংসে তার রান ১১ হাজার ৫৭৯। ব্যাটিং গড় ৪৪.৩৬। সেঞ্চুরি ১৭টি ও ফিফটি ৮৬টি। সর্বোচ্চ ১৩৯ রান।
ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বল হাতেও ছিলেন কার্যকর। ওয়ানডেতে ক্যালিসের ঝুলিতে রয়েছে ২৭৩ উইকেট।
১০. সৌরভ গাঙ্গুলী (ভারত)
তালিকার দশম স্থানে ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী। ৩১১ ম্যাচে ৩০০ ইনিংসে তিনি করেছেন ১১ হাজার ৩৬৩ রান। ব্যাটিং গড় ৪১.০২। সেঞ্চুরি ২২টি ও ফিফটি ৭২টি। সর্বোচ্চ ১৮৩ রান।
ওয়ানডেতে গাঙ্গুলীর ১১ হাজারের বেশি রান ছাড়াও রয়েছে ১০০ উইকেট। ভারতের হয়ে ১৯৯০-এর দশকের শেষভাগ ও ২০০০-এর দশকের শুরুতে ওপেনিংয়ে তার দারুণ সাফল্য ছিল।

