...|...|...

রাজধানী

পাতাল মেট্রোরেল নির্মাণে বড় অগ্রগতি, চার প্যাকেজের চুক্তি সই

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৫ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:১৩ | আপডেট: ৫ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ৩:৩৬
Shares
পাতাল মেট্রোরেল নির্মাণে বড় অগ্রগতি, চার প্যাকেজের চুক্তি সই

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকায় দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল প্রকল্প এমআরটি লাইন-১ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। প্রকল্পটির চারটি প্যাকেজের নির্মাণকাজের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল ভবনের সম্মেলনকক্ষে এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এবং জাইকা বাংলাদেশ অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো। স্বাগত বক্তব্য দেন ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসন, যাতায়াতের সময় কমানো এবং নাগরিকদের আধুনিক ও মানসম্মত গণপরিবহন সেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণসহ নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও সময়োপযোগী নগর গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল এমআরটি লাইন-১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। প্রকল্পে জাপান সরকারের সহযোগিতা ও জাইকার অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

চারটি প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষরকে প্রকল্প বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উল্লেখ করে সচিব চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্মাণকাজে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে শ্রম আইনসহ দেশের প্রচলিত আইন মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

নির্মাণকাজের কারণে সাধারণ মানুষের সাময়িক ভোগান্তি যেন দীর্ঘায়িত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা, প্রকল্প এলাকার বাসিন্দাদের কল্যাণ এবং নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বজায় রাখার ওপর জোর দেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং উন্নয়ন সহযোগিতার প্রশংসা করেন। মেট্রোরেল প্রকল্পের স্থবিরতা কাটিয়ে পুনরায় বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু ও গতিশীল করার উদ্যোগের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

সাইদা শিনিচি বলেন, দুই দেশের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে পাশে থাকতে আগ্রহী জাপান।

চার প্যাকেজে যেসব কাজ হবে

সিপি-০৪ (টানেল ও স্টেশন নির্মাণ): এ প্যাকেজের আওতায় রামপুরা আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে নতুন বাজার স্টেশন পর্যন্ত ৪ দশমিক ৪৪৭ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণ করা হবে।

সিপি-০৬ (টানেল ও স্টেশন নির্মাণ): নদ্দা আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে বিমানবন্দর স্টেশন পর্যন্ত ৫ দশমিক ১৮২ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণ করা হবে।

সিপি-০৯ (ট্র্যাক ও ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম): এ প্যাকেজের আওতায় রেললাইন, টার্নআউট, পয়েন্ট ও ক্রসিংসহ ট্র্যাক এবং বৈদ্যুতিক সুবিধা স্থাপন করা হবে।

সিপি-১০ (সিগন্যালিং ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা): এ প্যাকেজে সিগন্যালিং, টেলিযোগাযোগ, প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর এবং এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ইআরএমএস) স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে স্বয়ংক্রিয় ট্রেন নিয়ন্ত্রণ, অপটিক্যাল ফাইবারভিত্তিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং এলটিই প্রযুক্তির রেডিও যোগাযোগব্যবস্থাও রয়েছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং চুক্তি স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।