...|...|...

রাজধানী

তিন বাড়ির ফটকে কাফনের কাপড় ও গলাকাটা মুরগি

টাইমস টুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৫ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪:১০
Shares
তিন বাড়ির ফটকে কাফনের কাপড় ও গলাকাটা মুরগি

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার ধামরাইয়ে তিনটি বাড়ির প্রধান ফটকে কাফনের কাপড়, আতর, সাবান ও রক্তমাখা গলাকাটা মুরগি রেখে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) দিনগত রাতে কুল্লা ইউনিয়নের বড় চন্দ্রাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে দুটি বাড়ির প্রধান ফটকে এসব জিনিস দেখতে পান বাড়ির লোকজন। এর আগে বুধবার গভীর রাতে মোসলেহ উদ্দিনের বাড়ির গ্রিলে একটি ব্যাগ ঝুলতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

যে তিনটি বাড়িতে এসব জিনিস রেখে যাওয়া হয়েছে, সেগুলোর মালিক হলেন গত মাসে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মো. মোসলেহ উদ্দিন এবং তার প্রতিবেশী মো. ওয়াহিদ ভুইয়া রিপন ও সেন্টু মিয়া।

মোসলেহ উদ্দিন বলেন, গত ২৪ অক্টোবর গভীর রাতে আমার বসতঘরে দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। সেই দুঃসহ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই আবার এই ঘটনা। যারা সেসময় আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং আমাকে সহযোগিতা করেছিলেন, ঠিক তাদের বাড়িগুলোতেই এবার কাফনের কাপড় পাঠিয়ে মৃত্যুর বার্তা দেওয়া হয়েছে। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

তিনি আরও বলেন, তার বাড়ির পাশে জমি কেনা নিয়ে একটি নম্বর থেকে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। ওই ব্যক্তি তাকে বলেন, ‘ওই জমি আপনি কেন ক্রয় করলেন।’ এরপর থেকে একের পর এক হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

ওয়াহিদ ভুইয়া রিপন বলেন, রাতে মোসলেহ উদ্দিনের বাড়ির গ্রিলে ব্যাগ ঝুলতে দেখে তিনি সেখানে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকার অনেক মানুষ সেখানে জড়ো হন। পরে মোসলেহ উদ্দিন ঘরে ফিরে গেলে তিনিও নিজের বাড়িতে চলে যান। তখন তার বাড়ির সামনে কিছু দেখতে পাননি। সকালে দরজায় কাফনের কাপড়, আতর, সাবান ও রক্তমাখা গলাকাটা মুরগি দেখতে পান।

তিনি বলেন, এটা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। পূর্ব শত্রুতার জেরে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে আমাদের পরিবারকে মানসিকভাবে ভেঙে দিতে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিতেই এই ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

তৃতীয় ভুক্তভোগী সেন্টু মিয়া বলেন, আমরা এলাকায় শান্তিতে বাস করতে চাই। প্রকাশ্য দিবালোকে বা রাতের আঁধারে এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও হুমকি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের পুরো পরিবার এখন আতঙ্কে ঘরের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার ও প্রশাসনের কাছে কঠোর নিরাপত্তা চাই।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ ঘটনার পর শুধু ওই তিন পরিবার নয়, পুরো চন্দ্রাইল গ্রামের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এদিকে একের পর এক হুমকি ও বাড়ির সামনে কাফনের কাপড় রাখার ঘটনায় ভুক্তভোগীরা প্রথমে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে ধামরাই থানায় গিয়ে লিখিতভাবে বিষয়টি পুলিশকে জানান।

ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।