পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের মর্যাদা পুনর্ব্যক্ত করার কয়েক দিন পর এবার জাপান সাগরের দিকে একটি অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রয়টার্সের বরাত দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে, উত্তর কোরিয়া জাপানের সাগরের দিকে একাধিক স্বল্প পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করার আট দিন পর এ নতুন উৎক্ষেপণের ঘটনা ঘটল। পরবর্তীতে পিয়ংইয়ং এটিকে একটি যৌথ অগ্নিকাণ্ড বা ফায়ার পাওয়ার ড্রিল হিসেবে বর্ণনা করেছিল। এছাড়া জাতিসংঘ পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থার সেই প্রস্তাব পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসন বা প্রত্যাখ্যান করার সপ্তাহজুড়ে চলা ঘটনার পরেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো, যেখানে তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছিল।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া পূর্ব সাগরে একটি অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল নিক্ষেপ করেছে।
জাপানি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও উৎক্ষেপণের বিষয়টি নিশ্চিত করে এক্স-এ জানিয়েছে যে প্রজেক্টাইলটি ছিল একটি সন্দেহভাজন ব্যালিস্টিক মিসাইল। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরবর্তীতে জানিয়েছে যে প্রজেক্টাইলটি ইতোমধ্যেই পতিত হয়েছে, তবে এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য তারা দেয়নি।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার এই সপ্তাহের সাধারণ সম্মেলনের সময় উত্তর কোরিয়া ‘শত্রুতাপূর্ণ শক্তিগুলো’ দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র উত্তর কোরিয়ার আনুষ্ঠানিক নামের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করে বলেছেন যে, আইএইএ-র এই প্রস্তাব পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে ডিপিআরকের অবস্থানের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না।
উত্তর কোরিয়া আইনগতভাবে নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রের মর্যাদা নিশ্চিত করেছে এবং এর নেতৃত্ব দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রাগারকে স্থায়ী ও অপরিবর্তনীয় বলে ঘোষণা করেছে।
এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত আগস্ট মাসে বলেছিলেন যে উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫৭টি ‘অতি শক্তিশালী’ পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে, অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া এই সংখ্যাটি ৮০ থেকে ১২০টির মধ্যে বলে উল্লেখ করেছে।

