ফিলিস্তিনেন গাজা ও পশ্চিম তীরে দখলদার ইসরায়েলি সরকারের কর্মকাণ্ডকে ‘বিশ্বের বিবেকের ওপর কলঙ্ক’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। একই সঙ্গে গাজা ইস্যুতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানায়, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে মিলিব্যান্ড বলেন, ইসরায়েল যে হুমকির মুখে রয়েছে, তা পরবর্তী সময়ে নেওয়া দেশটির পদক্ষেপগুলোকে কোনোভাবেই যৌক্তিক প্রমাণ করতে পারে না।
ফিলিস্তিনিদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে তিনি সম্মেলনে উপস্থিত নেতাকর্মীদের প্রশংসা পান।
মিলিব্যান্ড বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা দেখে যারা ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন, যুক্তরাজ্য সরকার তাদের কথা শুনেছে। তিনি জানান, লেবার পার্টি গাজা ও পশ্চিম তীরে সংঘটিত অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে অবস্থান আরও জোরদার করেছে।
তিনি বলেন, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা, গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এবং ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ব্রিটেন অবস্থান নিয়েছে।
মিলিব্যান্ড জানান, অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সীমিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর মধ্যে এসব বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করা এবং বসতিগুলোর জন্য ব্রিটিশ অর্থায়ন, নির্মাণকাজ ও সেবা সরবরাহে বাধা দেওয়ার বিষয়ও রয়েছে।
তিনি বলেন, ব্রিটেন শুধু নিন্দাসূচক বিবৃতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং কথার সঙ্গে কাজের মিল রাখবে।
লেবার পার্টির এই নেতা স্পষ্ট করে বলেন, তাদের বিরোধ ইসরায়েলের জনগণের সঙ্গে নয়, বরং ইসরায়েল সরকারের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে।
এ ছাড়া ইসরায়েলের পাশাপাশি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নষ্ট করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করার কথা জানান মিলিব্যান্ড। তিনি বলেন, লেবার পার্টি দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান রক্ষায় কাজ করবে।
বক্তব্যে নিজের বাবা-মায়ের মূল্যবোধের কথাও তুলে ধরেন মিলিব্যান্ড। তিনি এটিকে ‘বেঁচে যাওয়া ব্যক্তির দায়িত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও ভালো পৃথিবী গড়ে তোলা এবং অবিচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সবার দায়িত্ব।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার আহ্বানও জানিয়েছেন মিলিব্যান্ড। জলবায়ু নীতি, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউরোপের সঙ্গে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব ব্রিটেনের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।


