...|...|...

সারাদেশ

অবরোধে অচল সাজেক, বিপাকে পর্যটন ব্যবসায়ী ও জুমচাষিরা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৫ নভেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:১৫
Shares
অবরোধে অচল সাজেক, বিপাকে পর্যটন ব্যবসায়ী ও জুমচাষিরা

ছবি: সংগৃহীত

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক সড়কে দফায় দফায় অবরোধের প্রতিবাদে পাল্টা ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন চলছে। অন্যদিকে, পাঁচ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা বহাল রেখেছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে সাজেকের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ।

পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বিন্দু লাল চাকমা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ৪ ও ৫ নভেম্বর ৪৮ ঘণ্টার এ অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১১ ও ১৫ অক্টোবর, ২২ থেকে ৩১ অক্টোবর এবং সর্বশেষ ২ নভেম্বর থেকে চতুর্থ দফায় সাজেক সড়কে অবরোধ চলছে। টানা এ কর্মসূচিতে পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পরিবহন খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সংগঠনটির দাবি, অবরোধের কারণে জুমচাষিরা উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে পারছেন না। ফলে ক্ষেত ও ঘরে নষ্ট হচ্ছে কৃষিপণ্য। পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ থাকায় আয়-রোজগার হারাচ্ছেন হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় অর্থনীতি, পাশাপাশি সরকারও হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও অভিযোগ করা হয়, আঞ্চলিক সশস্ত্র দলগুলোর প্রভাব ও চাপে জুমচাষিদের অবরোধে অংশ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনায় পাহাড়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, পাঁচ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন। তবে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বহনকারী যানবাহন এবং জরুরি সেবার গাড়ি চলাচলে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন সংগঠন দুটির নেতারা।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবরোধে পর্যটন ও পরিবহন খাতের পাশাপাশি কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে দুর্গম এলাকার মানুষের চিকিৎসা, খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এ অবস্থায় পাহাড়ে শান্তি ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতে সংঘাত-অবরোধের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।