১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করে আইন পাস করেছে গ্রিসের পার্লামেন্ট। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে আইনটি কার্যকর হবে। নতুন আইন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানায়, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসতাকিসের দল নিউ ডেমোক্রেসি পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিলটি পাস হয়। বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া উত্তপ্ত বিতর্কে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল বিলটির পক্ষে সমর্থন জানায়নি। তবে বিশ্বজুড়ে শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের প্রবণতা বাড়ছে।
এর আগে গত এপ্রিলে এই নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মিতসতাকিস। তরুণদের কাছে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই পদক্ষেপকে ‘কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয়’ বলে অভিহিত করেন।
বিলের ভোটাভুটিতে অংশ নেয়নি বিরোধী দল সমাজতান্ত্রিক পাসোক। দলটি বিকল্প প্রস্তাবে ১৩ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং ১৩ ও ১৪ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণ আরোপের কথা বলেছিল।
এই নিষেধাজ্ঞার মধ্য দিয়ে গ্রিস এমন প্রায় ২০টি দেশের তালিকায় যুক্ত হলো, যারা শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক ও যুক্তরাজ্যও একই ধরনের বিধিনিষেধ চালু করেছে অথবা তা চালুর পরিকল্পনা করছে।
সমর্থকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসক্তি সৃষ্টিকারী অ্যালগরিদম শিশু-কিশোরদের দীর্ঘ সময় পর্দায় আটকে রাখে, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে।
তবে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, আইন বাস্তবে কীভাবে কার্যকর করা হবে এবং তা শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার কতটা কমাতে পারবে, সেটিই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।


