...|...|...

ক্যাম্পাস

রাকসুর জিএস আম্মারের কার্যক্রমের দায় নেবে না ছাত্রশিবির

রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৩৮ | আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৬, রাত ৮:২৯
Shares
রাকসুর জিএস আম্মারের কার্যক্রমের দায় নেবে না ছাত্রশিবির

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের দেওয়া প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার দাফতরিক ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটির দাবি, যাতায়াত ও আপ্যায়ন খাতে এত বড় অঙ্কের ব্যয়ের ব্যাখ্যা বাস্তবসম্মত নয়। একই সাথে জিএসের কার্যক্রম ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার দায়ভারও নেবে না ছাত্রশিবির।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে পরবর্তী রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাসহ পাঁচ দফা দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল।

মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের কার্যক্রমের সামগ্রিক বিষয়ে আমাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। কারণ তিনি আমাদের প্যানেল থেকে নির্বাচিত নন। আমাদের প্যানেল থেকে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের সব কার্যক্রমের দায়ভার বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির নেবে।

রাকসুর দাফতরিক ব্যয়ের হিসাব নিয়ে তিনি বলেন, দাফতরিক ব্যয় ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা। খরচের ব্যাখ্যায় তিনি আপ্যায়ন ও যাতায়াত খরচ দেখিয়েছেন। এত বড় অঙ্কের টাকা যাতায়াত ও আপ্যায়নে ব্যয় হবে-এটি সম্পূর্ণ অবাস্তব। শিক্ষার্থীরাও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নেবেন না।

রাকসুর কার্যক্রম শুরুর পর প্রথম কয়েক মাসের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জটিলতার কথাও তুলে ধরেন ছাত্রশিবির সভাপতি। তিনি বলেন, রাকসু গঠনের পর প্রথম তিন থেকে চার মাস কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে এগোতে পারেনি। এর অন্যতম কারণ ছিল হিসাব-সংক্রান্ত জটিলতা।

তার ভাষ্য, রাকসুর জিএস কিছু ধারার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, সব বাজেট তার মাধ্যমে দিতে হবে। পরে বিভিন্ন সম্পাদক দফতরের কাজ সম্পন্ন করে ভাউচার জিএসের দফতরে জমা দিলেও সেগুলো কোষাধ্যক্ষের দফতরের সাথে সমন্বয় করা হচ্ছিল না।

মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, ‘ভাউচার সমন্বয় না হওয়ায় ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের বাজেট পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে এপ্রিল মাসের অধিবেশনে রাকসুর সম্পাদকরা বিষয়টি সভায় উত্থাপন করেন। তাঁরা বলেন, এভাবে চললে রাকসু সঠিকভাবে কাজ করতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, পরে রাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিষয়টি আমলে নিয়ে বিভিন্ন দফতরকে স্বতন্ত্র বাজেট দেওয়ার অনুমোদন দেন। তার দাবি, ভাউচার সমনয়-সংক্রান্ত জটিলতার দায় মূলত জিএস দফতরের।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের পাঁচ দফা দাবিও তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো-শতভাগ আবাসিকতা নিশ্চিত করতে রোডম্যাপ প্রণয়ন, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ভাতা চালু, ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটকে কার্যকর ও নিয়মিত করা এবং পরবর্তী রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা।