রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফাইন্যান্স বিভাগে মানোন্নয়ন পরীক্ষা ও ডিস-কলেজিয়েট শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি বিভাগের সভাপতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে চাপের মধ্যে রাখার অভিযোগ করেছেন বিভাগের একাংশ শিক্ষার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থীর ক্লাসে উপস্থিতি ৬০ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশের কম হলে তাকে নন-কলেজিয়েট হিসেবে গণ্য করা হয়। নির্ধারিত জরিমানা দিয়ে এসব শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, নন-কলেজিয়েট শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ৫০০ টাকা জরিমানা দেওয়ার কথা। তবে বিবিএ অধ্যাদেশে নন-কলেজিয়েট ফি ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ফাইনান্স বিভাগে নন-কলেজিয়েট শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা নেওয়া হয়।
অন্যদিকে উপস্থিতি ৬০ শতাংশের কম হলে তাকে ডিস-কলেজিয়েট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাধারণত ডিস-কলেজিয়েট শিক্ষার্থীদের ওই সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকে না। তবে বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর দাবি, ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা দিলে ডিস-কলেজিয়েট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
ফাইনান্স বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদেরটা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের এক ডিপার্টমেন্ট। সভাপতির একচেটিয়া সিদ্ধান্তই সব। এমনকি সভাপতি আমাদের মানসিকভাবেও টর্চার করেন।’
তবে নন-কলেজিয়েট শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না বলে জানিয়েছেন ফাইনান্স বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এ.এস.এম. কামরুজ্জামান।
তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত নন-কলেজিয়েট ফি শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকেই জমা দেয়। আমাদের এখানে নন-কলেজিয়েটের জন্য যে ফি নির্ধারিত আছে, সেটা তো দিতেই হয়। তবে এ বিষয়ে ঠিক কত টাকা নেওয়া হচ্ছে, সেটা আমি এই মুহূর্তে সঠিকভাবে বলতে পারছি না। এ বিষয়ে অফিসে খোঁজ নিতে হবে।’
ডিস-কলেজিয়েট শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি।
এবিষয়ে তিনি বলেন, ‘না, এটা হয় না। এভাবে টাকা নিয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসানোর কোনো বিষয় নেই। বরং আমরা শিক্ষার্থীদের যাতে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করি।’
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের কোনো এক সেমিস্টারে পরীক্ষা খারাপ হলে সেটার মানোন্নয়ন পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সেখানেও ফাইনান্স বিভাগ লাগামহীন ফি আদায় করতে দেখা গেছে।
সম্প্রতি ফাইনান্স বিভাগের প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষার ফর্ম পূরণের বিজ্ঞপ্তিতে দেখা গেছে মানোন্নয়ন পরীক্ষা দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের বিভাগের সভাপতির নামে ১ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এই টাকা জমা দেওয়ার পর প্রতি কোর্সের জন্য আলাদা ১০০ টাকা দিতে হয় বলে জানান শিক্ষার্থীরা। যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফাইনান্স বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ফাইন্যান্স বিভাগে মানোন্নয়ন পরীক্ষা দেওয়াটাও যেন একপ্রকার বিলাসিতা। নানা কারণে একজন শিক্ষার্থীর পরীক্ষা খারাপ হতে পারে। কিন্তু মানোন্নয়ন পরীক্ষার জন্য এত বেশি টাকা নির্ধারণ করায় চাইলেও অনেক শিক্ষার্থী ইমপ্রুভ দিতে পারছেন না।’
তিনি বলেন, ‘অন্যান্য বিভাগ যেখানে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা নেয় সেখানে আমাদের দেড় হাজারের অধিক টাকা দিতে হচ্ছে। এটি শিক্ষার্থীদের ওপর এক ধরনের আর্থিক চাপ। আমরা বিভাগের কাছে অনেকটাই জিম্মি হয়ে আছি।’
তবে শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়ন পরীক্ষার প্রতি নিরুৎসাহিত করার জন্য ফি বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানান ফাইনান্স বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এ.এস.এম কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘মান উন্নয়ন পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের প্রবণতা অনেক বেড়ে গেছে। আমরা এটাকে কিছুটা নিরুৎসাহিত করতে চাচ্ছি। মান উন্নয়ন পরীক্ষার ফি আগে ১ হাজার টাকা ছিল, আমরা এটা ৫০০ টাকা বাড়িয়ে দেড় হাজার টাকা করেছি।’
এদিকে ব্যবসা অনুষদের ডীনের দায়িত্ব পারল করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এসব বিষয়ে আমাকে কেউ এখন পর্যন্ত জানায়নি। আপনার কাছ থেকেই বিষয়টি প্রথম জানলাম। আমি বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে সত্যতা যাচাই করব। যদি কোনো অবৈধ কিছু হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই তা চলতে পারে না।’


