...|...|...

বিশ্ব

যুদ্ধ চললে ‘সবকিছু হারাবে’ সৌদি আরব: ইরানি অধ্যাপক

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ভোর রাত ৪:২৮
Shares
যুদ্ধ চললে ‘সবকিছু হারাবে’ সৌদি আরব: ইরানি অধ্যাপক

অধ্যাপক সাইয়্যেদ মোহাম্মদ আলী মারান্দি। ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধের তীব্রতা অব্যাহত থাকলে সৌদি আরবের অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে। এমনকি দেশটির তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের বিশ্লেষক ও তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাইয়্যেদ মোহাম্মদ আলী মারান্দি। তার মতে, তেলের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল সৌদি অর্থনীতি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ধাক্কা সামাল দিতে হিমশিম খেতে পারে।

ইয়েমেনের সাথে সংঘাত বাড়লে সৌদি আরবকে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নানা সমস্যার মুখেও পড়তে হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। সম্প্রতি আল মায়াদিনের ‘দ্য গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডঅফ: ইরান অ্যান্ড দ্য ওয়ার্ল্ড’ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন মারান্দি।

তিনি বলেন, সৌদি আরব ইতিমধ্যে অনেক কিছু হারিয়েছে। এই যুদ্ধ চলতে থাকলে দেশটি সবকিছু হারাবে।

সৌদি আরবের অর্থনৈতিক কাঠামোর দুর্বলতা তুলে ধরে মারান্দি বলেন, ইরান কিংবা বিশ্বের অনেক দেশের মতো সৌদি আরবের অর্থনীতি বহুমুখী নয়। দেশটি প্রায় পুরোপুরি তেলের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে, ইয়েমেনের আনসারুল্লাহর সামনে হামলার জন্য বহু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু রয়েছে।

তার ভাষ্য, ইয়েমেন সৌদি আরবে হামলার তীব্রতা বাড়াতে পারে। তবে দেশটি পরিকল্পনা ও হিসাব-নিকাশ করেই হামলা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে জানাশোনা ব্যক্তিরা তাকে জানিয়েছেন, ইয়েমেন আরও শক্তিশালী হামলা চালাতে সক্ষম।

মারান্দির দাবি, ইয়েমেন সৌদি আরবকে ধ্বংস করতে চায় না। বরং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বোধোদয় ঘটিয়ে যুদ্ধ বন্ধে তাকে উদ্যোগী করাই ইয়েমেনের লক্ষ্য। তবে সৌদি আরব যদি হামলার মাত্রা বাড়ায়, তাহলে ইয়েমেনও পাল্টা হামলা জোরদার করবে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেন এই অধ্যাপক। তার মতে, তেল রপ্তানি ব্যাহত হলে দেশটির অর্থনীতি গুরুতর সংকটে পড়বে এবং শাসকগোষ্ঠীকে অভ্যন্তরীণ নানা সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি আরবের সম্পদ, বন্ড ও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা অর্থের নিরাপত্তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন মারান্দি।

যুক্তরাষ্ট্রের বন্ডবাজারের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। মারান্দির দাবি, বন্ডবাজার ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদেরও গুরুতর অর্থনৈতিক সমস্যা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরব ও কাতারের শাসকদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অর্থ তুলে নেওয়ার সুযোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র সহজে তাদের অর্থ তুলে নিতে দেবে না।