পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে সেনা মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রবিবার (১১ অক্টোবর) এ বিষয়ে আদেশ জারি করে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রদেশের মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনা মোতায়েন করা হবে। সুরক্ষা দেওয়া হবে সরকারি স্থাপনাগুলোতেও। জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন যত দিন বহাল থাকবে, তত দিন এ অনুমোদন কার্যকর থাকবে।
প্রয়োজনীয় সেনাসদস্য ও সরঞ্জামের সংখ্যা নির্ধারণ করবেন প্রদেশের গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্ডি। এ বিষয়ে তিনি সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরের সামরিক অভিযান পরিচালনা বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির মধ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকের একদিন পর এ সিদ্ধান্ত এল। এর আগে কেন্দ্রীয় সরকার ও খাইবার পাখতুনখোয়ার প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) এবং প্রদেশের ক্ষমতাসীন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) মধ্যে নিরাপত্তানীতি নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ দমন ও সামরিক অভিযান নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান আলাদা।
পিটিআইয়ের অভিযোগ, প্রদেশের নিরাপত্তা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সন্ত্রাসবাদ দমন এবং আফগান তালেবানের সঙ্গে আলোচনা নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
এদিকে, জরুরি অবস্থা জারির পর পেশোয়ারের বিভিন্ন সড়কে কনটেইনার বসিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। গভর্নর হাউস ও পুলিশ সদর দপ্তরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। বন্ধ রাখা হয়েছে কয়েকটি সড়ক ও প্রবেশপথ। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন ব্যাহত হয়েছে।


