মার্কিন নৌ-অবরোধ এবং পশ্চিমা কঠোর নিষেধাজ্ঞা চাতুরতার সঙ্গে এড়িয়ে অন্তত ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম আমদানির লক্ষ্যে বিশ্বজুড়ে ৫ হাজার সামরিক ও আর্থিক সংস্থার একটি সুবিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে ইরান। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত এই বিশাল নেটওয়ার্কটি তেহরানের জন্য একটি শক্তিশালী আর্থিক ও সামরিক যন্ত্র হিসেবে কাজ করছে। এসব সংস্থার একটি বড় অংশ সরাসরি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস এবং দেশটির প্রভাবশালী এলিটদের নিয়ন্ত্রিত ‘বনিয়াদ’ নামে পরিচিত বড় বড় ব্যবসায়ী কনগ্লোমারেট বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত।
ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচি তৈরিতে ভূমিকা রাখা মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মিয়াদ মালেকি বলেন, বর্তমান সংঘাতের সময়ে এবং এর আগের বহু বছর ধরে এটিই ছিল ইরানি শাসকগোষ্ঠীর মূল সামরিক অর্থনৈতিক লাইফলাইন বা প্রধান চালিকাশক্তি। মূলত এটি ইরানের সামরিক বাণিজ্য কার্যক্রমের একটি পূর্ণাঙ্গ বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেম।
অস্ত্র আমদানির এই আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কটি ইরানকে তাদের নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বহু মৌলিক কাঁচামাল ও প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। এসব অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করেই ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত জ্বালানি অবকাঠামোগুলোতে ধারাবাহিক হামলা পরিচালনা করছে, যা আইআরজিসিকে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ আক্রমণ সামলে উঠতে এবং তা রুখে দিতে বড় ধরনের সহায়তা জোগাচ্ছে।


