ভারতের উত্তর প্রদেশে প্রেমিককে বিয়ের দাবিতে প্রায় ১০০ ফুট উঁচু একটি মোবাইল টাওয়ারে চড়ে বসে এক তরুণী আকুল প্রতিবাদ জানিয়েছেন। পরিবার এই বিয়েতে সায় না দেওয়া পর্যন্ত তিনি নিচে নামতে সাফ অস্বীকৃতি জানান। অবশেষে ভিডিও কলের মাধ্যমে অনলাইনে কাজী ডেকে বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন করার পর তিনি নিচে নেমে আসেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ভারতের হিন্দুস্তান টাইমসের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর প্রদেশের বাহরাইচ জেলায় এই রোমাঞ্চকর ঘটনাটি ঘটে। তরুণীর নাম সাহিবা বেগম (১৯), যিনি এলাকায় মেহেক নামেও পরিচিত। ২১ বছর বয়সী তরুণ নূরউদ্দীনের সাথে প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে মায়ের সাথে তীব্র বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তিনি ওই উঁচু মোবাইল টাওয়ারে উঠে পড়েন।
ঘটনার সময় নূরউদ্দীন প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার দূরে মুম্বাইয়ে কাজের সূত্রে অবস্থান করছিলেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিয়ে করতে চাইলেও দুই পরিবারই এই সম্পর্কের ঘোর বিরোধী ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেহেক প্রায় চার ঘণ্টা ধরে টাওয়ারের ওপর অবস্থান করেন। এ সময় তার স্বজন, স্থানীয় গ্রামবাসী এবং পুলিশ বাহিনী তাকে নিরাপদে নিচে নেমে আসার অনুরোধ ও বোঝানোর চেষ্টা করে। কিন্তু নিজের দাবি মানা না হলে তিনি ওপর থেকে লাফ দেওয়ার হুমকি দিতে থাকেন।
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে নারী পুলিশ সদস্যসহ একটি চৌকস বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তাকে শান্ত করার চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মুম্বাইয়ে থাকা নূরউদ্দীনের সাথে যোগাযোগ করা হয় এবং উভয় পরিবারের বিরোধ মেটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে একজন স্থানীয় মুসলিম কাজী ভিডিও কলের মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্সে দূরবর্তী মুম্বাই থেকে যুক্ত থাকা নূরউদ্দীনের সাথে মেহেকের নিকাহ (বিবাহ চুক্তি) সম্পাদন করেন। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর মেহেক নিচে নেমে আসতে রাজি হন এবং নারী পুলিশ সদস্যরা তাকে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনেন।
উত্তেজনাকর এই ঘটনার পরিসমাপ্তির পর পুলিশ ওই তরুণী ও তার পরিবারকে প্রাথমিক কাউন্সিলিংয়ের জন্য থানায় নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে তাকে মায়ের জিম্মায় বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।


