ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর হয়ে যুদ্ধে অংশ নিতে যাওয়া উগান্ডার অন্তত ২৭ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন অথবা তাদের মৃত বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। মস্কোয় অবস্থিত উগান্ডার দূতাবাস থেকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি আনুষ্ঠানিক চিঠিতে এই তথ্য উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়েছে।
রয়টার্সের সংগৃহীত ওই কূটনৈতিক পত্রে নিশ্চিতভাবে নিহত ১১ জন উগান্ডানের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া বাকি ১৬ জনের কোনো হদিস বা লাশ পাওয়া যায়নি এবং যুদ্ধবন্দীদের তালিকাতেও তাদের নাম নেই বলে জানানো হয়েছে।
উগান্ডা দূতাবাস জানায়, রাশিয়া সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক নোটের (‘নোট ভার্বাল’) মাধ্যমে তারা এই তথ্য সংগ্রহ ও নিশ্চিত করেছে। উগান্ডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সের কাছে চিঠিটির সত্যতা স্বীকার করেছেন।
তবে এই বিষযে মন্তব্যের জন্য উগান্ডার রাজধানী কামপালায় অবস্থিত রুশ দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
উচ্চবেতনের চাকরির লোভ কিংবা বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে আফ্রিকান তরুণদের রাশিয়ায় নিয়ে পরে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেওয়ার একের পর এক ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিনিয়ত সামনে আসছে। এই নিয়ে কেনিয়া, ঘানা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলোতে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ইউক্রেন সরকারের দাবি অনুযায়ী, গত বছর পর্যন্ত আফ্রিকার অন্তত ৩৬টি দেশের ১,৪০০ জনেরও বেশি নাগরিক রুশ বাহিনীর পক্ষে যুদ্ধক্ষেত্রে সক্রিয় ছিলেন, যাদের অনেকের সঙ্গেই প্রতারণা করে যুদ্ধক্ষেত্রে নামানো হয়েছিল।
তবে আফ্রিকান নাগরিকদের অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানোর এই সমস্ত অভিযোগ বরাবরের মতোই অস্বীকার করে আসছে মস্কো।


