...|...|...

খেলা

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বিদ্বেষের শিকার হয়েছে আর্জেন্টিনা: ফিফা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১২:২০ | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১২:২৬
Shares
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বিদ্বেষের শিকার হয়েছে আর্জেন্টিনা: ফিফা

ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি বিদ্বেষমূলক বার্তার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে আর্জেন্টিনা। দলটির পাশাপাশি কোচ লিওনেল স্কালোনিকেও ঘিরে ছড়িয়েছে নানা আক্রমণাত্মক মন্তব্য। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রাক্কালে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের ৯ জুন থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত এক্স, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও টিকটকে প্রকাশিত ১ কোটি ৭১ লাখের বেশি পোস্ট ও মন্তব্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ফিফার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সুরক্ষা পরিষেবা (এসএমপিএস) অনলাইনে বিদ্বেষমূলক আচরণের ধরন ও ব্যাপ্তি পর্যালোচনা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপে রানার্সআপ হয়েছিল আর্জেন্টিনা। ফাইনালে স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে হেরে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের সুযোগ হারায় আলবিসেলেস্তেরা।

ফিফার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার পর অনলাইনে সবচেয়ে বেশি আক্রমণের শিকার হয়েছে ইংল্যান্ড, স্পেন, ব্রাজিল ও নরওয়ে। আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিকে নিয়েও ব্যাপক নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়েছে। এসব মন্তব্যের বড় অংশে ছিল রেফারিরা আর্জেন্টিনাকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছেন এমন অভিযোগ। পাশাপাশি ছড়িয়েছে বিদেশিবিদ্বেষমূলক বক্তব্যও।

ব্যক্তিগতভাবে খেলোয়াড়দের লক্ষ্য করে করা অনলাইন আক্রমণের হিসাবে আর্জেন্টিনার অবস্থান চতুর্থ। এ ক্ষেত্রে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও পর্তুগালের খেলোয়াড়েরা আরও বেশি বিদ্বেষমূলক বার্তার মুখে পড়েছেন। খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে আক্রমণের উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল বর্ণবাদী। বিশেষ করে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত কয়েকজন ফুটবলারকে লক্ষ্য করে বর্ণবাদী মন্তব্য করা হয়েছে।

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি অনলাইন হয়রানির শিকার হওয়া খেলোয়াড়ের পরিচয় প্রকাশ করেনি ফিফা। তবে সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই খেলোয়াড়কে বর্ণবাদ, সমকামিতাবিদ্বেষ, নারীবিদ্বেষ ও ট্রান্সজেন্ডারবিদ্বেষমূলক আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে।

বিদেশিবিদ্বেষমূলক বক্তব্যের প্রধান লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। এসব বার্তায় অভিবাসন, জাতীয় পরিচয় এবং দল নির্বাচনের মতো বিষয় উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, বর্ণবাদী বার্তা ছড়ানোর ক্ষেত্রেও আর্জেন্টাইনদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল। অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে সাধারণ ধরনের অনলাইন আক্রমণের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ইউরোপে, এরপর দক্ষিণ আমেরিকায়।

খেলোয়াড়দের পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুতর হুমকির মুখে পড়েছেন ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারিরা। তাদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করে হয়রানির চেষ্টা, যা ‘ডক্সিং’ নামে পরিচিত, অন্যদের তুলনায় বেশি ঘটেছে রেফারিদের ক্ষেত্রে। ম্যাচে দুর্নীতি বা পাতানো খেলার সন্দেহ থেকে তাদের লক্ষ্য করে এসব আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে ফিফা।