ফুটবল থেকে বিদায় নিলেও লিওনেল মেসির স্মৃতি ধরে রাখার উদ্যোগ নিয়েছে আর্জেন্টিনার ক্লাব রিভার প্লেট। জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচে পরা ১০ নাম্বার জার্সিটি এখন ক্লাবটির জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। মেসির বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার, অসংখ্য অর্জন ও ভক্তদের ভালোবাসার স্মারক হয়ে থাকবে এই জার্সি।
বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার বিদায়ী ম্যাচে ৩-০ গোলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন মেসি। ৮৫ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে তার কর্নার থেকে গোল করেন নিকোলাস ওতামেন্দি, আরেকটি গোলে ছিল তার পাসের অবদান। নিজেও পেনাল্টি থেকে গোল করে জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা।
ম্যাচের ৪৮ মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে গোল করেন ওতামেন্দি। এতে আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের শেষ ম্যাচে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন এই ডিফেন্ডারও। এরপর ৬১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নিকো পাজের দুর্দান্ত গোলেও অবদান রাখেন মেসি। তার পাস পেয়ে বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে জাল খুঁজে নেন পাজ, যাকে অনেকে মেসির জার্সির উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন।
শেষদিকে নিজের নামও স্কোরশিটে তোলেন মেসি। ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখেন তিনি। তার এমন বিদায়ে আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
মেসির বিদায়ি ম্যাচটি ছিল আবেগে ভরা। গ্যালারিতে উপস্থিত সমর্থকদের উল্লাসের সাথে মিশে ছিল প্রিয় তারকাকে জাতীয় দলের জার্সিতে আর দেখতে না পাওয়ার বেদনা। কান্না আর করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম। আর্জেন্টিনার হয়ে দীর্ঘ ২১ বছরের পথচলার ইতি টানেন মেসি।
জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ ও গোলের রেকর্ড নিয়ে বিদায় নেন এই ফুটবল কিংবদন্তি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০৮ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ১২৬। বিদায়ী ম্যাচের পর নিজের ১০ নাম্বার জার্সিটি রিভার প্লেটকে উপহার দেন মেসি। জার্সিতে লিখে দেন ভালোবাসার বার্তা। পরে সেটি জায়গা পায় ক্লাবটির জাদুঘরে।
কাচের বাক্সে সংরক্ষিত জার্সিটি এখন মেসির ফুটবলজীবনের এক স্মরণীয় অধ্যায়ের সাক্ষী। তবে তার বাঁ পায়ের জাদু, গোলের আনন্দ আর সতীর্থদের সাথে উদ্যাপনের মুহূর্তগুলো ভক্তদের স্মৃতিতে বেঁচে থাকবে আরও বহুদিন। মাঠের বিদায় শেষ হলেও ফুটবল ইতিহাসে মেসির অধ্যায় যে সহজে শেষ হওয়ার নয়, এই জার্সি যেন তারই প্রতীক।


