একসময় বিদেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ ও কাউন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের উপস্থিতি ছিল সীমিত। সাকিব আল হাসানের পর এবার সেই পরিধি ধীরে ধীরে বাড়ছে। দেশের একাধিক ক্রিকেটার এখন বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি ও ঘরোয়া লিগে নিয়মিত সুযোগ পাচ্ছেন এবং পারফরম্যান্স দিয়ে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছেন।
বিশেষ করে বাংলাদেশের পেস বোলারদের প্রতি বিদেশি দলগুলোর আগ্রহ সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। পাকিস্তান সুপার লিগে নাহিদ রানা, ইংলিশ কাউন্টিতে হাসান মাহমুদ ও সৈয়দ খালেদ আহমেদ, লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে তাওহীদ হৃদয় এবং বিগ ব্যাশে রিশাদ হোসেন নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।
এই ধারাবাহিকতায় অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশেও নাহিদ রানাকে ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ১৫০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করার সক্ষমতা থাকা এই তরুণ পেসারকে দলে নিতে অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সসহ একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজি আলোচনা করছে বলে ক্রিকেটসংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
তবে নাহিদ রানা শেষ পর্যন্ত বিগ ব্যাশে খেলতে পারবেন কি না, তা নির্ভর করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অনাপত্তিপত্রের ওপর। কারণ ডিসেম্বরের সময় বাংলাদেশ দলের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের সূচি রয়েছে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ওই সিরিজে নাহিদকে দলে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টের। তিনি শুধু টেস্ট সিরিজে অংশ নিয়ে পরে অস্ট্রেলিয়ায় যেতে পারলে বিগ ব্যাশের কিছু ম্যাচ খেলার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটেও বাংলাদেশি পেসারদের পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে। কেন্টের হয়ে হাসান মাহমুদ ও সৈয়দ খালেদ আহমেদ একই ম্যাচে খেলেছেন। ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচে দুজনের বোলিংয়ে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের সামর্থ্য ফুটে ওঠে।
কাউন্টি ক্রিকেটে অভিষেক ম্যাচেই খালেদ আহমেদ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। অন্যদিকে হাসান মাহমুদও কেন্টের হয়ে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে নজর কেড়েছেন। তার খেলা চারটি ম্যাচেই জয় পেয়েছে কেন্ট।
বিদেশি কন্ডিশনে বাংলাদেশি পেসারদের এমন পারফরম্যান্স তাদের প্রতি ফ্র্যাঞ্চাইজি দলগুলোর আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
পাকিস্তান সুপার লিগে নাহিদ রানার পারফরম্যান্সও ছিল উল্লেখযোগ্য। মাত্র পাঁচ ম্যাচে নয়টি উইকেট নিয়ে তিনি টুর্নামেন্টে নিজের সামর্থ্যের জানান দেন। তার গতি ও বাউন্স প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
নাহিদের এই পারফরম্যান্সই তাকে অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশের মতো বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিযোগিতায় সম্ভাব্য আকর্ষণীয় খেলোয়াড় হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছে।
শুধু পেস বোলিং নয়, বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে বাংলাদেশের ব্যাটার ও অলরাউন্ডারদের উপস্থিতিও বাড়ছে। লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে তাওহীদ হৃদয় নিয়মিত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দলগুলোর আস্থার জায়গা তৈরি করেছেন। তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলামও লঙ্কান লিগে বল হাতে নিজেদের সামর্থ্য দেখিয়েছেন।
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব বেড়েছে। গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের হয়ে অভিষেক ম্যাচেই মেহেদী হাসান মিরাজ তিন উইকেট নিয়ে আলোচনায় আসেন। অলরাউন্ডার হিসেবে তার কার্যকর পারফরম্যান্স বিদেশি লিগে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের সক্ষমতার আরেকটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি ও কাউন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ যেমন বাড়ছে, তেমনি পারফরম্যান্সের মাধ্যমেও তারা নিজেদের চাহিদা তৈরি করছেন। বিশেষ করে তরুণ পেসারদের গতি ও বৈচিত্র্য এখন আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি দলগুলোর নজর কাড়ছে। এতে বিশ্ব ক্রিকেটের বিভিন্ন লিগে ভবিষ্যতে আরও বেশি বাংলাদেশি ক্রিকেটারের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।


