প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়মকানুন (ফাইন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে) লঙ্ঘনের ১১৪টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। তবে ক্লাবটিকে কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
সিটির বিরুদ্ধে আনা ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে মাত্র একটি ছাড়া বাকি সবকটিতেই দোষী প্রমাণিত হয়েছে ক্লাবটি। চার বছরের দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব অভিযোগ আনা হয়।
সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-কে ম্যানচেস্টার সিটির এক মুখপাত্র জানান, প্রিমিয়ার লিগের আইনি প্রক্রিয়াটি এখনো চলমান এবং বিষয়টি কঠোর গোপনীয়তার আওতাধীন। তবে প্রথম থেকেই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আসা সিটি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে সঠিক আর্থিক তথ্য এবং খেলোয়াড়-কোচদের পারিশ্রমিকের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জমা না দেওয়ার অভিযোগ তোলে প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ। ২০১৮ সালে জার্মান পত্রিকা 'ডের স্পিগেল'-এ সিটির আর্থিক নথি ফাঁস হওয়ার পর এই তদন্তের সূত্রপাত হয়। ২০০৮ সালে আবু ধাবি ইউনাইটেড গ্রুপ ক্লাবের মালিকানা নেওয়ার পর সিটি ৮টি প্রিমিয়ার লিগসহ একাধিক বড় শিরোপা জিতেছে।
এর আগে ২০২০ সালে উয়েফা সিটিকে দুই বছরের জন্য ইউরোপীয় ফুটবলে নিষিদ্ধ ও জরিমানা করলেও খেলাধুলার সর্বোচ্চ আদালত ‘সিএএস’ তা বাতিল করেছিল।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের শাস্তি হিসেবে পয়েন্ট কাটা হয়েছে। তবে সিটির বিরুদ্ধে মামলাটি এভারটন ও নটিংহাম ফরেস্টের পিএসআর–সংক্রান্ত মামলার চেয়ে অনেক বড়।
২০২৩–২৪ মৌসুমে পিএসআর ভঙ্গের দায়ে এভারটনের ১০ পয়েন্ট কাটা হয়েছিল। আপিলের পর তা কমে ছয় পয়েন্ট হয়। একই মৌসুমে আলাদা একটি নিয়ম ভঙ্গের ঘটনায় আরও দুই পয়েন্ট কাটা হয়। নটিংহাম ফরেস্টের কাটা হয়েছিল চার পয়েন্ট।
তবে এসব ঘটনা থেকে ম্যানচেস্টার সিটির সম্ভাব্য শাস্তি সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা পাওয়ার সুযোগ নেই। প্রিমিয়ার লিগের নিয়ম অনুযায়ী, স্বাধীন কমিশন জরিমানা, পয়েন্ট কাটা কিংবা অন্যান্য ক্রীড়া-সংক্রান্ত শাস্তি দিতে পারে।


