...|...|...

সারাদেশ

থোয়াই চিং মং চাক

পাহাড়ের সন্ত্রাসীদের ক্রসফায়ার দিলে সেনাবাহিনীকে স্যালুট জানাব

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১:১৪
Shares
পাহাড়ের সন্ত্রাসীদের ক্রসফায়ার দিলে সেনাবাহিনীকে স্যালুট জানাব

অ্যাক্টিভিস্ট ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং চাক। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের সভাপতি ও অ্যাক্টিভিস্ট ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং চাক বলেছেন, আমি তখনই আমার দেশের গর্বিত সেনাবাহিনীকে স্যালুট জানাব, যখন তারা দু-চারটা সন্ত্রাসীকে ক্রসফায়ারের মাধ্যমে এই পাহাড় থেকে চিরতরে মুক্ত করবে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি চাই, প্রত্যেকটা সন্ত্রাসী বাহিনীকে ছাড়বেন না। জেলখানায় নিয়ে ডাল-ভাত খাওয়ানোর দরকার নেই, বাংলাদেশের টাকা নষ্ট করার কোনো মানে হয় না; তাদের ব্রাশফায়ার করে মেরে ফেলুন। এতে দেশের কোনো ক্ষতি হবে না, বরং উপকার হবে।

ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং চাক বলেন, সাজেকে থমথমে পরিস্থিতি চলছে। দীর্ঘ কয়েক দিন ধরে পাহাড়ে যে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো আছে এবং ভারতের যে সকল দালাল রয়েছে, তারা পর্যটন খাতকে নষ্ট করার জন্য এবং জল ঘোলা করে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার পাঁয়তারা চালিয়ে আসছিল। কয়েক হাজার পর্যটক সাজেকে আটকে পড়েছিল। 

তিনি বলেন, সেই আটকে থাকা পর্যটকদের বের করে আনার জন্য বাংলাদেশের গর্বিত সেনাবাহিনী যখন তথাকথিত ‘সাজেক রক্ষা কমিটি’ নামের সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর অবরোধ ও ব্যারিকেড ভেঙে পর্যটক ভাইদের উদ্ধার করার চেষ্টা করে, তখন এই সন্ত্রাসী বাহিনীরা আমাদের গর্বিত সেনাবাহিনীর ওপর গুলি চালায়।

তিনি আরও বলেন, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ জনগণ বনাম সেনাবাহিনী এমন একটা বিভাজনের পরিস্থিতি তৈরি করে রাখা হয়েছে। এই বিভাজনের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। এই দেশের গর্বিত সেনাবাহিনী যেমন এ দেশের নাগরিক, আমরাও এ দেশের নাগরিক। এই সেনাবাহিনী পাহাড়ের মানুষের নিরাপত্তা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার জন্য কাজ করে। তাহলে কেন আমাদের সেনাবাহিনীর মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হবে? আমরা এই প্রতিদ্বন্দ্বী বা মুখোমুখি অবস্থান চাই না।

সন্ত্রাসী বাহিনীকে দমন করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই পাহাড়কে ভারতমুক্ত, দালালমুক্ত এবং বাংলাদেশের চেতনায় উজ্জীবিত করার জন্য আমি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। কিন্তু আমার এই কাজগুলো বন্ধ করার জন্য নানা জায়গা থেকে আমাকে হুমকি ও বাধা দেওয়া হচ্ছে। 

আমি বারবার সরকারের কাছে উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে আসছি, এই সন্ত্রাসী বাহিনীকে দমন করতে না পারলে পার্বত্য চট্টগ্রাম যেকোনো মুহূর্তে জুম্মল্যান্ড হয়ে যাবে। জুম্মল্যান্ড হওয়ার জন্য যা যা প্রক্রিয়া দরকার, ওরা তা সম্পন্ন করে ফেলেছে। এখন কেবল পাহাড় থেকে সেনাবাহিনীকে বিচ্ছিন্ন বা তাড়াতে পারলে ওদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণ হয়ে যাবে।

পাহাড় রক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাজেকে যে ভাইয়েরা ব্যবসা-বাণিজ্য করেন, আপনাদের কি ক্ষতি হচ্ছে না? আপনারা কেন আওয়াজ তুলছেন না? কেন কথা বলছেন না? এই সন্ত্রাসী বাহিনীকে আঙুল তুলে গণধোলাই দিন, যাতে ওরা আপনাদের রুটিরুজিতে আঘাত হানতে না পারে। আপনারা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন বলেই তারা আজকে আপনাদের পেটে লাথি মারছে। ক্ষতি হচ্ছে কার? 

তারা অস্ত্র দিয়ে গুলি করে জঙ্গলে বা ভারতে পালিয়ে যায়। অথচ সারা দেশের মানুষের সারা বছরের জমানো টাকায় সাজেকে বেড়াতে গিয়ে পর্যটকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর এতে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আসার কথা থাকলেও তথাকথিত পাহাড় রক্ষার নামে এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো যুগ যুগ ধরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে আসছে।