ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করতে বিরোধী ‘পরিবর্তন জোটের’ দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটের আরব দলগুলোর জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জয়েন্ট লিস্টের প্রধান ও আরব আইনপ্রণেতা আহমাদ তিবি এক লিখিত বার্তায় জানান, আরব নাগরিকদের ব্যাপক ভোটাধিকার প্রয়োগ ঐতিহাসিক অর্জন এনে দিয়েছে। এটি প্রমাণ করেছে যে আরব জোট একটি ‘নির্ধারক শক্তি’, যাদের বাদ দিয়ে ইসরায়েলে রাজনৈতিক পরিবর্তন অসম্ভব।
তিনি বলেন, নেতানিয়াহু ও ইতামার বেন-গভিরের চরমপন্থি সরকারকে উৎখাত করতে আমরা ‘পরিবর্তন জোটের’ দিকে আমাদের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছি। আর এই প্রক্রিয়ার প্রথম পদক্ষেপ হবে নেসেট স্পিকার আমির ওহানাকে তার পদ থেকে অপসারণ করা।
প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মধ্য ইসরায়েলের তায়েবে শহরে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে তিবি বলেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা এবং ভোটদানে নানা বাধার সৃষ্টি করা সত্ত্বেও আরব জনগণের কণ্ঠস্বরই সবচেয়ে জোরদার প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমান জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, অপরাধী বেন-গভির আর পুলিশের দায়িত্বে থাকতে পারবে না। তার সময় শেষ হয়ে এসেছে।
বর্তমান আসন চিত্র ও ক্ষমতার সমীকরণ
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মোট ১২০ আসনের নেসেটে ৮৪.৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোট ৫৩টি আসনে এগিয়ে রয়েছে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন থেকে ৮টি কম।
অন্যদিকে, ‘টাইমস অব ইসরায়েল’-এর বরাতে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি জানিয়েছে, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। আর প্রধানত আরব দলগুলো যৌথভাবে পেয়েছে ১৯টি আসন।
আরব দলগুলোর এই ১৯টি আসনের মধ্যে জয়েন্ট লিস্ট এককভাবে ১১টি আসন এবং ইউনাইটেড আরব লিস্ট (রা’আম) ৮টি আসন পেতে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, আইজেনকটের ‘ইয়াশার’ পার্টি ছাড়া বিরোধীদের ‘পরিবর্তন জোটে’ রয়েছে ইয়ার লাপিদের ‘ইয়েস আতিদ’, ইয়ার গোলানের ‘ডেমোক্র্যাটস’, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের ‘বেয়াহাদ’ এবং আবিগদোর লিবারম্যানের ‘ইয়েসরায়েল বেইতেনু’।


