...|...|...

বিশ্ব

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র-কিউবার তুমুল হট্টগোল, পরিস্থিতি সামলালেন খলিলুর রহমান

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৪১
Shares
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র-কিউবার তুমুল হট্টগোল, পরিস্থিতি সামলালেন খলিলুর রহমান

ছবি: সংগৃহীত

কিউবার ওপর আমেরিকার দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অবরোধকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও চরম উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়েন যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার প্রতিনিধিরা। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে অধিবেশন সাময়িকভাবে স্থগিত করতে বাধ্য হন সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। 

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নিউইয়র্কে সংস্থাটির সদর দফতরে বার্ষিক আলোচনা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বক্তব্য দিতে গিয়ে কিউবার সমাজতান্ত্রিক সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি হাভানার বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং শাসকগোষ্ঠীর সম্পদ কুক্ষিগত করার সরাসরি অভিযোগ তোলেন।

ওয়াল্টজের এমন মন্তব্যের পরপরই সভাকক্ষে শুরু হয় তীব্র হট্টগোল। কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ পারিল্লাসহ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জোরে চেঁচাতে থাকেন এবং টেবিলে হাত চাপড়ে প্রতিবাদের ঝড় তোলেন। পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খলিলুর রহমান বারবার সভাপতি হিসেবে হাতুড়ি ঠুকে সবাইকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান, তবে তাতে উত্তেজনা কমেনি।

এ সময় মাইক ওয়াল্টজ ক্ষোভ প্রকাশ করে সভাপতির উদ্দেশে বলেন, আশা করি জনাব সভাপতি, প্রতিনিধিদলের সবাই এখন নির্ধারিত বক্তব্য মন দিয়ে শুনছেন। এরপর কিউবার মুক্তচিন্তার পথ রুদ্ধ করার সমালোচনা করে তিনি যোগ করেন, হাভানায় দাঁড়িয়ে কেউ সরকার সম্পর্কে এমন প্রশ্ন তোলার দুঃসাহস দেখালে কী পরিণতি হতো, তা অনুমান করা কঠিন নয়।

একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা চরম রূপ ধারণ করে। ওয়াল্টজ হুঙ্কার ছেড়ে বলেন, এটি আমেরিকা, এটি জাতিসংঘ। এটি আপনাদের কোনো কমিউনিস্ট একনায়কতন্ত্রের জায়গা নয়। আপনারা আমাকে কিংবা আমার সহকর্মীদের মুখ বন্ধ করাতে পারবেন না।

এরই মাঝে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রদ্রিগেজ পারিল্লা আসন ছেড়ে সভাকক্ষের সামনের দিকে অগ্রসর হন। ওয়াল্টজ তাকে তাৎক্ষণিক দূর থেকে কথা বলতে বলেন এবং চিৎকার করে জানান, যুক্তরাষ্ট্রে তাকে কেউ ভয় দেখাতে পারবে না, কারণ তিনি একজন মার্কিন প্রতিনিধি।

পরিস্থিতির আরও অবক্ষয় রুখতে শেষ পর্যন্ত খলিলুর রহমান নিজ এখতিয়ার বলে অধিবেশন সাময়িকভাবে মুলতবি ঘোষণা করেন। পরে তিনি অধিবেশন পরিচালনার সুনির্দিষ্ট নিয়ম ব্যাখ্যা করে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আইনি প্রক্রিয়ায় আপত্তি জানানোর সুযোগ প্রদান করেন। তবে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয় যে, ওয়াল্টজের বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে সরাসরি কোনো আলোচনা করা যাবে না।

এরপর নিজ আসনে ফিরে রদ্রিগেজ পারিল্লা বক্তব্য দিয়ে ওয়াল্টজের আনা সমস্ত অভিযোগকে ‘নির্লজ্জ মিথ্যাচার’ বলে আখ্যা দেন। পরে বড় ধরনের কোনো হট্টগোল ছাড়াই বক্তব্য শেষ করে সদস্য দেশগুলোকে কিউবার ওপর মার্কিন অবরোধের নিন্দা জানিয়ে আনা প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান ওয়াশিংটনের দূত।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের তীব্র সমালোচনা করেন রদ্রিগেজ পারিল্লা। তিনি লেখেন, চরম ঔদ্ধত্য ও অহংকারের কারণে ওয়াল্টজ ভুলে গেছেন যে তিনি জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে আছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে কিংবা সেনাবাহিনীর বিশেষ বাহিনী ‘গ্রিন বেরেটস’ বা কোনো সিগন্যাল গ্রুপে নয়। এর মাধ্যমে ওয়াল্টজ নিজের প্রশাসনিক অযোগ্যতা ও অপেশাদারিত্বই প্রকাশ করেছেন বলে কটাক্ষ করেন কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, মাইক ওয়াল্টজ মার্কিন সেনাবাহিনীর বিশেষ বাহিনী গ্রিন বেরেটসের একজন সাবেক সদস্য। পূর্বে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ইয়েমেনে হুথি বিরোধী অভিযানের একটি সংবেদনশীল সিগন্যাল চ্যাট গ্রুপে ভুলবশত এক সাংবাদিককে যুক্ত করে তিনি চরম বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন। ওই গ্রুপে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ছিলেন।

পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াল্টজকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত করেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার বাড়তি দায়িত্ব প্রদান করেন।

কিউবার বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের বহুল বিতর্কিত বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক অবরোধের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে প্রতিবছরই সর্বসম্মত নিন্দা প্রস্তাব আনা হয়। এবারের অধিবেশনও সেই ঐতিহাসিক বিরোধে ফের উত্তপ্ত রূপ ধারণ করল।