...|...|...

সারাদেশ

নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশ ধরতে সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি জেলেদের

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১২:৫৯
Shares
নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশ ধরতে সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি জেলেদের

ছবি: প্রতিনিধি

মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকারের দেওয়া ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মধ্যরাতে। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার অপেক্ষায় পটুয়াখালীর জেলেরা। সাগরে মাছ ধরার জন্য ট্রলার, জাল ও বরফ প্রস্তুত করছেন তারা। দীর্ঘ বিরতির পর এবার কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলবে—এমন প্রত্যাশা নিয়ে সমুদ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন উপকূলের মৎস্যজীবীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার অন্যতম বৃহৎ মৎস্য বন্দর মহিপুর ও আলীপুরসহ বিভিন্ন মৎস্য অবতরণকেন্দ্র ও আড়তঘাটে ব্যস্ততা বেড়েছে। জেলেরা ট্রলার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করছেন। কেউ ট্রলারে জাল ও বরফ তুলছেন, আবার কেউ মাছ ধরার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করে নদীর মোহনায় অবস্থান নিয়েছেন। নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে রাত ১২টার পর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

সরকার গত ৮ অক্টোবর থেকে মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে। এ সময়ে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বিপণন এবং ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞার কারণে জেলেদের দীর্ঘ সময় মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে হয়েছে। জেলার অধিকাংশ জেলে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলেছেন বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।

তবে নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি প্রণোদনার চাল বিতরণ নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন কয়েকজন জেলে। তাদের অভিযোগ, প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অনেকে চাল পাননি। অন্যদিকে, বাংলাদেশের জলসীমায় প্রতিবেশী দেশের জেলেদের প্রবেশ করে মাছ ধরার অভিযোগও তুলেছেন তারা।

মহিপুরের নিজামপুর গ্রামের জেলে সালাম হোসেন বলেন, ‘আমরা যারা প্রকৃত জেলে, তারা এই ২২ দিন মাছ শিকার থেকে বিরত থেকেছি। আমাদের অনেকেই সরকার কর্তৃক চাল পাইনি। যারা মোটরসাইকেল ড্রাইভার ও মুদি দোকানদার, তারা চাল পেয়েছে। তাই প্রকৃত জেলেরা যেন চাল পায়, সে বিষয়ে সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

লতাচাপলী ইউনিয়নের খাজুরা গ্রামের জেলে বশির মিয়া বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা মেনে আমরা ঠিকই অলস সময় পার করেছি। পার্শ্ববর্তী দেশের জেলেরা আমাদের দেশের জলসীমায় অবাধে প্রবেশ করে মাছ শিকার করে নিয়ে গেছে। তারপরও আমরা আশা করছি, প্রত্যাশা অনুযায়ী মাছ পাব। তবে আগামী বছরে সাগরে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি জানাচ্ছি।’

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী জানান, ২৯ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত সমুদ্র ও জেলার নদ-নদীতে মোট ৪৮৪টি অভিযান এবং ১২৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ১৪৮ জন জেলেকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, ১৬৭টি মামলা করা হয়েছে এবং ৩ লাখ ১১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ২০ লাখ মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে।

তার দাবি, নিবন্ধিত সব জেলের মধ্যে সরকারি প্রণোদনার চাল বিতরণ করা হয়েছে।

মৎস্য কর্মকর্তা আরও বলেন, অধিকাংশ জেলে নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে পালন করেছেন। তাই নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গেলে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশ পাওয়ার প্রত্যাশা করছে মৎস্য বিভাগ।

দীর্ঘ ২২ দিনের বিরতির পর আবারও সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন পটুয়াখালীর জেলেরা। তাদের আশা, এবারের মৌসুমে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পড়লে নিষেধাজ্ঞার সময়ের আর্থিক ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে পারবেন তারা।