...|...|...

লাইফস্টাইল

নিজের কেনা জমি অন্যের দখলে, এমন পরিস্থিতিতে আইন আসলে কার পক্ষে?

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:২৩
Shares
নিজের কেনা জমি অন্যের দখলে, এমন পরিস্থিতিতে আইন আসলে কার পক্ষে?

ছবি: এআই জেনারেটেড

জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে একখণ্ড জমি কিনেছেন। দলিল, নামজারি, খাজনা সবই আপনার নামে একদম ঠিকঠাক। কিন্তু একদিন জমিতে গিয়ে দেখলেন অন্য কেউ সেখানে ঘর তুলেছে, বাউন্ডারি দিয়েছে বা ফসল ফলাচ্ছে। তারা দাবি করছে এই জমি তাদের, কিংবা নিছক গায়ের জোরে দখল করে রেখেছে। এমন পরিস্থিতিতে দিশেহারা হওয়ার কিছু নেই; আপনার কাগজপত্র ঠিক থাকলে আইন পুরোপুরি আপনার পক্ষেই থাকবে ।
আইন কী বলে?
ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ - ধারা ৭: সহজ কথা হলো - বৈধ মালিক উত্তরাধিকারী, দলিলধারী বা আদালতের আদেশে অধিকার পাওয়া ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ জমি দখলে রাখতে পারেন না। বৈধ দখলদারকে আদালত বা কর্তৃপক্ষের আদেশ ছাড়া বের করে দেওয়াও অপরাধ হতে পারে।
একই আইন - ধারা ৮: আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে জমি থেকে সরিয়ে দিলে তিনি এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জমি ফেরত চেয়ে আবেদন করতে পারেন। শুনানি ও তদন্তের পর আইনটি দ্রুত সিদ্ধান্তের কথা বলে। একই জমি নিয়ে দেওয়ানি মামলা চললে এই পথ নেওয়ার আগে আইনজীবীর পরামর্শ জরুরি।
Specific Relief Act, ১৮৭৭ ধারা ৮ ও ৯: মালিকানার ভিত্তিতে জমি ফেরত চাইলে ধারা ৮-এর মামলা করা যায়। আর আগে দখলে থাকা কাউকে জোর করে সরিয়ে দিলে ধারা ৯-এ দ্রুত মামলা করা যায়। এই বিশেষ মামলা দখল হারানোর ছয় মাসের মধ্যে করতে হয়।
দেওয়ানি কার্যবিধি - অর্ডার ৩৯, বিধি ১ - ২: মামলা চলার সময় অন্য পক্ষ জমি বিক্রি, ঘর নির্মাণ বা জমির অবস্থা বদলে ফেলতে পারে এমন আশঙ্কা থাকলে আদালতের কাছে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চাওয়া যায়।
প্রথমেই আপনার করণীয় 
দখলের ছবি ও তথ্য রাখুন: নিরাপদ জায়গা থেকে তারিখসহ ছবি-ভিডিও নিন। বেড়া, ঘর, সীমানা, দেওয়ানি উপস্থিত সাক্ষী এবং কবে দখল বদলেছে - সব লিখুন। হুমকি হলে থানায় জিডি বা অভিযোগ দিন।
সব কাগজ এক জায়গায় করুন: দলিলের সার্টিফায়েড কপি, আগের দলিল, খতিয়ান, নামজারি, ভূমি ফৌজদারি করের রসিদ, মৌজা ম্যাপ ও জমির তফসিল সংগ্রহ করুন৷ শুধু নামজারি বা করের রসিদকে মালিকানার চূড়ান্ত প্রমাণ ভাববেন না।
জমি মেপে মিলিয়ে নিন: মৌজা, নম্বর, খতিয়ান, দাগ, পরিমাণ ও চার সীমানা বাস্তব জমির সাথে মেলে কিনা দেখুন। দরকার হলে অভিজ্ঞ আমিন বা সার্ভেয়ার দিয়ে মাপিয়ে লিখিত প্রতিবেদন নিন।
সঠিক আইনি পথ বাছুন: সাম্প্রতিক জোরপূর্বক দখল হলে ধারা ৮-এর আবেদন বা Specific Relief Act-এর ধারা ৯-এর মামলা উপযুক্ত হতে পারে। পুরোনো দখল বা মালিকানা নিয়ে বিরোধ হলে দেওয়ানি মামলা লাগতে পারে।
জমির অবস্থা বদলানো বন্ধ করুন: দখলকারী ঘর তুলছে বা বিক্রি করছে - এমন প্রমাণ থাকলে আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চান। ভাঙচুর, জাল দলিল বা হামলার অভিযোগ আলাদাভাবে পুলিশকে জানান।
যে ভুলগুলো কখনোই করবেন না
নিজে গিয়ে উচ্ছেদ করা: লোকজন নিয়ে বেড়া কাটা বা ঘর ভাঙলে আপনার বিরুদ্ধেই ভাঙচুর ও মারামারির অভিযোগ হতে পারে।
একটি কাগজকেই সব ভাবা: দলিল, খতিয়ান, নামজারি ও করের রসিদের কাজ আলাদা। সব কাগজ ও আগের মালিকানা মিলিয়ে দেখুন।
ছয় মাস দেরি করা: ধারা ৯-এর দ্রুত মামলা করতে চাইলে দখল হারানোর ছয় মাসের সময়সীমা মনে রাখুন।
একইসাথে ভুল পথে মামলা: এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের আবেদন ও দেওয়ানি মামলার মধ্যে বাধা থাকতে পারে। আগে কোন পথ ঠিক, তা জেনে নিন।
প্রতিকার ও অভিযোগের স্থান: সাম্প্রতিকভাবে বেআইনি দখল হারালে এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২০২৩ সালের আইনের ধারা ৮ অনুযায়ী আবেদন করা যেতে পারে। জমির মালিকানা, সীমানা বা পুরোনো দখল নিয়ে বিরোধ হলে দেওয়ানি আদালতে মালিকানা ঘোষণা, দখল ফেরত ও অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চাইতে হয়। হুমকি, হামলা, ভাঙচুর বা জাল দলিল থাকলে থানায় আলাদা অভিযোগ দিন। ভূমি অফিস নামজারি ও রেকর্ডের সমস্যা দেখবে, কিন্তু চূড়ান্ত মালিকানা- বিরোধ আদালতই মীমাংসা করে।