...|...|...

লাইফস্টাইল

ফেসবুকে ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল: প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যে ভুলটি কখনোই করবেন না

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:০০
Shares
ফেসবুকে ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল: প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যে ভুলটি কখনোই করবেন না

ছবি: এআই জেনারেটেড

ফেসবুক মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে হঠাৎ একটি অপরিচিত আইডি থেকে মেসেজ এলো। খুলে দেখলেন আপনার কোনো ব্যক্তিগত বা এডিট করা আপত্তিকর ছবি। সাথে মেসেজ - ‘এত টাকা না দিলে এখনই এই ছবি ফেসবুকে ভাইরাল করে দেব এবং আপনার আত্মীয়-স্বজনদের ইনবক্সে পাঠিয়ে দেব।’ এমন পরিস্থিতিতে লজ্জায়, ভয়ে ও আতঙ্কে অনেকেই প্রথম ২৪ ঘণ্টায় এমন একটি মারাত্মক ভুল করে বসেন, যা তাদের সারাজীবনের কান্নার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আইন কী বলে?

সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ - ধারা ২৫: ব্যক্তিগত বা যৌন ছবি-ভিডিও দিয়ে ভয় দেখানো, টাকা চাওয়া, যৌন হয়রানি করা অপরাধ হতে পারে। ছবি প্রকাশ করা এবং প্রকাশের হুমকি - দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। নারী বা শিশুর বিরুদ্ধে হলে শাস্তি বেশি হতে পারে।

দণ্ডবিধি - ধারা ৩৮৩ - ৩৮৪: ভয় দেখিয়ে টাকা বা সম্পদ নেওয়াকে চাঁদাবাজি বলা হয়। টাকা দেওয়ার আগের হুমকির বার্তাও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।

ধারা ৫০৩ ও ৫০৬: কাউকে বা তার সুনামকে ক্ষতি করার ভয় দেখিয়ে কোনো কাজ করানো অপরাধমূলক হতে পারে।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২: যৌন ধরনের ছবি বা ভিডিও তৈরি, রাখা, পাঠানো বা ছড়িয়ে দেওয়ার কিছু ঘটনা এই আইনের অধীন অপরাধ। ভুক্তভোগী শিশু হলে বিষয়টি আরও গুরুতর।

হুমকি দিলেই অভিযোগ করা যায়: ছবি বা ভিডিও প্রকাশ হয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। ব্যক্তিগত ছবি ছড়ানোর হুমকি, টাকা দাবি, বারবার ভয় দেখানো এবং ভুয়া পরিচয়ে যোগাযোগের মেসেজগুলোও অভিযোগের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে।

প্রথমেই আপনার করণীয়

টাকা বা নতুন ছবি দেবেন না: টাকা দিলে ছবি মুছে ফেলার নিশ্চয়তা নেই। আরও ছবি, ওটিপি বা পরিচয়পত্রও পাঠাবেন না। প্রমাণ রাখার আগে অপরাধীকে ব্লক করবেন না।

পুরো প্রমাণ রাখুন: পূর্ণ চ্যাট, প্রোফাইল লিংক, ইউজারনেম, ফোন নম্বর, টাকা চাওয়া অ্যাকাউন্ট, দেওয়ানি তারিখ-সময় লিখে রাখুন।

নিজের অ্যাকাউন্ট নিরাপদ করুন: বিশ্বস্ত ডিভাইস থেকে পাসওয়ার্ড বদলান, অচেনা ডিভাইস থেকে লগআউট করুন, টু স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করুন এবং রিকভারি মেইল বা ফোন নম্বর দিয়ে সেগুলো আবার চেক করুন।

পুলিশ ও ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে জানান: থানায় লিখিত অভিযোগ দিন। একইসাথে ফেসবুকের হ্যারাসমেন্ট বা ছবির লিংক নিয়ে সেই ইউআরএল রিপোর্ট করুন। কেস নম্বর সেভ করে রাখুন।

বিশ্বস্ত মানুষের সহায়তা নিন: এ সমস্যা একা সামলাবেন না। পরিবার বা বিশ্বস্ত কাউকে জানান। নারী ভুক্তভোগী হলে পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর ওমেন ০১৩২০-০০০৮৮৮ নম্বরে সহায়তা চাইতে পারেন।

যে ভুলগুলো কখনোই করবেন না

টাকা দিয়ে থামানোর চেষ্টা: প্রথমবার টাকা দিলে অপরাধী নতুন দাবি করতে পারে। টাকা দেওয়া মানে ছবি মুছে ফেলার নিশ্চয়তা নয়।

চ্যাট মুছে ফেলা: প্রোফাইল লিংক, মেসেজ বা লেনদেনের তথ্য মুছে গেলে অপরাধীকে শনাক্ত করা কঠিন হয়।

একা দেখা করতে যাওয়া: অপরাধীর ডাকে গোপন জায়গায় যাবেন না। এতে শারীরিক বিপদের ঝুঁকি বাড়ে।

ছবিটি অন্যদের পাঠানো: প্রমাণ দেখানোর নামে আপত্তিকর ছবি বন্ধু বা গ্রুপে পাঠাবেন না। শুধু পুলিশ ও আইনজীবীকে প্রয়োজনমতো দিন।

প্রতিকার ও অভিযোগের স্থান: সব প্রমাণ নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ বা মামলা করুন এবং গ্রহণের কপি নিন। বাংলাদেশ পুলিশের অনলাইন জিডিতে অভিযোগ করা যায়। মামলার মতো অপরাধ হলে থানায় যেতে হতে পারে।