...|...|...

বিশ্ব

জন্মহার বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা চীনের

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১০:২৪
Shares
জন্মহার বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা চীনের

সংগৃহীত ছবি

জনসংখ্যা কমে যাওয়া ও রেকর্ড নিম্ন জন্মহারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিবারগুলোর জন্য বাড়তি সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে চীন। বিয়ে, সন্তান জন্মদান, লালনপালন ও শিক্ষার ক্ষেত্রে সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি কর, সামাজিক নিরাপত্তা ও আবাসন নীতিতে পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে দেশটির সরকার।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, চীনের মন্ত্রিসভা বা স্টেট কাউন্সিল একটি ‘জন্মহারবান্ধব সমাজ’ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে পরিবার ও সন্তান লালনপালনের সাথে সম্পর্কিত নীতিগুলো আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের জনসংখ্যা ২০২৫ সালে টানা চতুর্থ বছরের মতো কমেছে। জনসংখ্যা হ্রাসের এই প্রবণতা সামনে আরও অব্যাহত থাকতে পারে। এদিকে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে দেশটিতে বিয়ে নিবন্ধনের হার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।

জনসংখ্যা কমে যাওয়া ও বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সামাজিক বিমাব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরির আশঙ্কা করছে চীনের নীতিনির্ধারকেরা। এর মধ্যে দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে দেশটির অর্থনীতিও চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

স্টেট কাউন্সিলের বৈঠকে কর্মকর্তারা বলেন, ‘জনসংখ্যা হলো অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি।’ তারা আরও বলেন, মানসম্মত জনসংখ্যা উন্নয়ন দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নকে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে সহায়তা করতে পারে।

জন্মহার বাড়াতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা চালু করেছে চীন। এর মধ্যে দেশজুড়ে শিশু পরিচর্যার জন্য ভর্তুকি কর্মসূচি এবং প্রাক্‌-প্রাথমিক শিক্ষার ফি মওকুফ বা কমানোর উদ্যোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিয়ে ও সন্তান জন্মদানের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরির ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

এ ছাড়া মৌলিক জনসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছে দেশটির মন্ত্রিসভা। এ জন্য কয়েক দশক ধরে চালু থাকা পারিবারিক নিবন্ধন বা ‘হাউসহোল্ড রেজিস্ট্রেশন’ ব্যবস্থা সংস্কারের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

বর্তমান ব্যবস্থায় গ্রাম থেকে শহরে আসা কর্মীদের সন্তানদের শহরের সরকারি স্কুলে ভর্তি করানোসহ বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা পেতে বাধার মুখে পড়তে হয়। নিবন্ধনব্যবস্থার সংস্কার করা হলে এসব পরিবারের জন্য শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক সেবা পাওয়ার সুযোগ সহজ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিবারকে আর্থিক ও সামাজিকভাবে সহায়তা করা, সন্তান লালনপালনের ব্যয় কমানো এবং নাগরিক সেবায় প্রবেশাধিকার বাড়ানোর মাধ্যমে জন্মহার স্থিতিশীল করাই চীনের নতুন উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।