ভোলায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এক নেতার ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় দলটির মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ভোলা দক্ষিণ জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা আব্বাস উদ্দিনের সব সাংগঠনিক পদ স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে দলটি।
রবিবার (১১ অক্টোবর) ভোলা দক্ষিণ জেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, ভাইরাল ভিডিওতে এক নারীর সাথে ভিডিও কলে আব্বাস উদ্দিনকে আপত্তিকর ভঙ্গিতে কথা বলতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। চরফ্যাশন এলাকায় একটি কওমি মহিলা মাদ্রাসা পরিচালনার সাথে যুক্ত থাকায় প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ।
এ ঘটনায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে আব্বাস উদ্দিন দাবি করেছেন, ভিডিওটি কয়েক মাস আগের। ভিডিও কলে থাকা নারী তার স্ত্রী বলেও দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য, ভিডিওটি নিজের মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত ছিল। সম্প্রতি ফোনটি হারিয়ে যাওয়ার পর একটি চক্র অসৎ উদ্দেশ্যে সেটি উদ্ধার করে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে।
তবে মোবাইল ফোনে এ ধরনের সংবেদনশীল ভিডিও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অসতর্কতা ছিল বলে স্বীকার করেছেন তিনি। ভিডিওটি সম্পর্কে তার দেওয়া বক্তব্য ও দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শের প্রশ্নে সংগঠন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
তিনি জানান, ভোলা দক্ষিণ জেলা শাখার সভাপতি প্রফেসর কামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আব্বাস উদ্দিনের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাওলানা আব্বাস উদ্দিনের সব সাংগঠনিক পদ স্থগিত থাকবে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই তার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


