মাদারীপুর সদর হাসপাতালে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত এক নির্মাণশ্রমিকের লাশ প্রায় ৯ ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অখিল সরকারের পদত্যাগ, বিচার ও গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রাতে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে মাদারীপুর সদর হাসপাতালের সামনে এ বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে।
নিহত সাইম (২৩) মাদারীপুর পৌরসভার আমিরাবাদ এলাকার শামসু মোল্লার ছেলে। তিনি পেশায় নির্মাণশ্রমিক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে আমিরাবাদ এলাকায় সাইফুল ইসলামের নির্মাণাধীন ভবনের দ্বিতীয় তলায় থাই গ্লাসের কাজ করছিলেন সাইম। এ সময় ভবনের পাশ দিয়ে যাওয়া উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে গুরুতর আহত হন তিনি। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি সংগ্রহ করেন তারা। এরপর হাসপাতালে গেলেও লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দিতে দীর্ঘসূত্রিতা করা হয়। এতে প্রায় ৯ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় তাদের।
দীর্ঘ সময়েও লাশ বুঝে না পেয়ে মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় তারা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অখিল সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। একই সাথে তার পদত্যাগ, বিচার ও গ্রেফতারের দাবি জানান।
খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা ও সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। তারা বিক্ষোভকারীদের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে বিক্ষোভকারীরা শান্ত হন। রাতেই নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা গণমাধ্যমকে জানান, "হাসপাতালে মরদেহ আটকে রাখার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি ঘটনাস্থলে যাই এবং বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয় ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করি। নিহতের স্বজনদের শান্ত করা হয়েছে এবং রাতেই মরদেহ পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "মরদেহ হস্তান্তরে কেন এই দীর্ঘসূত্রিতা হলো এবং এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে সত্যতা মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এদিকে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মিজ্ মর্জিনা আক্তার জানিয়েছেন, সদর হাসপাতালে লাশ আটকে রাখার অভিযোগ তদন্তে বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।


