...|...|...

সারাদেশ

স্বৈরশাসক থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য রাস্তায় নেমেছি : শফিকুর রহমান

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:২০ | আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮:৪৭
Shares
স্বৈরশাসক থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য রাস্তায় নেমেছি : শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামির আমির ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান। ছবি: টাইমস টুডে

জামায়াতে ইসলামির আমির ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, স্বৈরশাসক থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি। এ লড়াই জনগণের জন্য, ১৮ কোটি মানুষের জন্য।

আজ দুপুরে, ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে রংপুর লং মার্চের অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাস এলাকায় পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

এসময় তিনি আরও বলেন, প্রথম দফা লং মার্চ শাপলা চক্তর থেকে শুরু হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো। রাস্তায় নারী-পুরুষ লং মার্চের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছিল। এরপর থেকে স্বৈরশাসকের পথে হাঁটা এই সরকারের জ্বালাপোড়া শুরু হলো। বিভিন্ন কথা বলতে শুরু করলো। বিরোধী দল কেন এখন লং মার্চ করতে যাচ্ছে? আমরা সরকারকে প্রশ্ন করি আপনারা কেন জনগণকে অপমান করতে গেলেন? ৭০ শতাংশ মানুষের ভোটের রায়কে কেন আপনারা সম্মান করলেন না। ১৪শত মানুষের জীবন ও রক্তের উপর দিয়ে আপনারা ক্ষমতায় বসে তাদের সাথে কেন বেইমানি করলেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেননি।

এসময় ডা.শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের প্রয়োজনে আট দফা থেকে এক দফা ঘোষণা করা প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমান সরকার জাতির সাথে ধোঁকাবাজি করেছে এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারেনি।

একই পথসভায় এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, লং মার্চে আপনারা আমাদের দোয়া দিতে এসেছেন, আমরা দোয়া নিতে এসেছি। কারন আমাদের সামনে কঠিন লড়াই। আমরা এক স্বৈরাচারকে হটিয়েছি। নতুন এক স্বৈরাচারকে গজিয়েছে বাংলাদেশে। গত ৭ মাসে জনগনের সাথে প্রতারণা ও  বিশ্বসা ঘাতকতা করেছে। দেশের ৭০শতাংশ মানুষ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট দিয়েছিলো। কথা ছিলো দেশে দুর্নীতি, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, বৈষম্য, দখল-দারিদ্র্য থাকবেনা। কিন্তু সবই রয়ে গেছে, শুধু হাসিনা চলে গিয়েছে। তারা কীভাবে র‍্যাবকে বিলুপ্তির কথা বলে এস আরবিতে পরিণত করেছে? একইভাবে হাসিনার সরকার তারেকের সরকারে পরিণত হয়েছে। 

এদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, এই লংমার্চ প্রমাণ করছে বাংলাদেশের মানুষ তারা তাদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। সরকার যদি জনগণের ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হয়, তাহলে যে ভাষায় বললে সরকার বুঝবে, ১১ দল সেই ভাষায় কথা বলতে প্রস্তুত রয়েছে। সোজা আঙুলের ঘি না উঠলে আঙুল বাকা করতেও প্রস্তুত আছি। ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের দাবিতে গণভোট দিয়েছে। সেই সংস্কারকে পাশ কাটিয়ে, সংবিধান সংশোধনের নামে বাংলাদেশের মানুষের গণরায়কে পাশ কাটিয়ে ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা করলে পরিণাম অতীতের মতোই হবে।

টাঙ্গাইলের পথসভায় টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতে ইসলামির আমির আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্ব বক্তব্য রাখেন, কর্নেল ড. অলি আহমেদ বীরবিক্রম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারোয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির আল্লামা মুফতি মোখলেসুর রহমান কাসেমী, জাগপার সহ সভাপতি রাশেদ প্রধানসহ এসময় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।