মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে দুই বছর বয়সী নাতিকে এক নারীর কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে মাটিতে ছুড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে দাদি মুক্তা বেগমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার ৩৬ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঘটনার পর শিশুটির মা সোনালী আক্তার শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শ্রীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযুক্ত মুক্তা বেগম (৪৫) উপজেলার তন্তর ইউনিয়নের কাননীসার গ্রামের তোফায়েল খানের স্ত্রী। আহত শিশুটির নাম নাফিন খান। সে মুক্তা বেগমের বড় ছেলে নিরব খানের সন্তান।
অভিযোগে বলা হয়, গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে মুক্তা বেগম এক নারীর কাছ থেকে দুই বছর বয়সী নাফিনকে ছিনিয়ে নেন। এরপর শিশুটিকে মাটিতে ছুড়ে ফেলেন তিনি। এতে নাফিনের কোমরে আঘাত লাগে। পরে কান্নার শব্দ শুনে শিশুটির মা ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
শুক্রবার রাতে ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ৩৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে শিশুটিকে মাটিতে ছুড়ে ফেলার দৃশ্য দেখা যায়।
শিশুটির মা সোনালী আক্তার অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি মুক্তা বেগম বিভিন্ন সময় তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে আসছেন। ঘটনার দিন ছেলেকে মাটিতে ফেলে দেওয়ার পর তার কান্নার শব্দ শুনে তিনি ছুটে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। এ সময় তার শ্বশুর ও স্বামী কোনো প্রতিবাদ করেননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইউসুফ সাগর বলেন, একটি শিশুকে এভাবে মাটিতে ছুড়ে ফেলার ঘটনা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও অমানবিক। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি অভিযুক্ত নারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জুয়েল মিঞা অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


