স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা স্টারলিংকের ব্যবহার ঠেকাতে দমন অভিযান জোরদার করছে ইরান। একই সঙ্গে দেশটিতে বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবহারে আরও বিধিনিষেধ আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে স্টারলিংককে ‘যুদ্ধের হাতিয়ার’ হিসেবে বর্ণনা করেছে তেহরান।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় সাইবারস্পেস কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ আমিন আগামিরি বলেছেন, শত্রুরা স্টারলিংক ব্যবহার করে সামরিক নির্দেশনা, গুপ্তচরবৃত্তি ও তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। স্টারলিংক টার্মিনালের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে কর্তৃপক্ষের হাতে একাধিক ব্যবস্থা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব ব্যবস্থার বিস্তারিত জানাননি।
স্টারলিংক ব্যবহার বা টার্মিনাল নিজেদের কাছে রাখার জন্য ইরানে ছয় মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। ডিভাইস আমদানি ও বিতরণের ক্ষেত্রে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। জাতীয় নিরাপত্তা বা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ যুক্ত হলে শাস্তি আরও কঠোর হতে পারে।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টারলিংকের সংযোগ ব্যাহত করতে ইরানি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ধরনের জ্যামার, ভুয়া জিপিএস সংকেত এবং ইন্টারনেট প্রোটোকল শনাক্তকরণের কৌশল ব্যবহার করছে। পাশাপাশি টহল, ড্রোন তল্লাশি ও অভিযানের মাধ্যমে স্যাটেলাইট টার্মিনাল জব্দের চেষ্টা চলছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে ইরানের প্রায় ৯ কোটি মানুষ দুই দফায় দীর্ঘ সময়ের জন্য বৈশ্বিক ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়েছেন। জানুয়ারিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভের সময় তিন সপ্তাহ এবং চলমান যুদ্ধের শুরুতে ৮৮ দিন ইন্টারনেট বন্ধ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, ইরানের কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের দেশীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে উৎসাহিত করছে। পাশাপাশি ব্যবসায়ী, গবেষক ও সাংবাদিকদের মতো নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের জন্য সীমিত আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যবহারের ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেন, সাইবার হামলা থেকে জনগণ ও জাতীয় সম্পদ রক্ষায় বিভিন্ন সংস্থা ইন্টারনেটের গতি কমানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। ইন্টারনেটভিত্তিক পরিষেবা ও তথ্যভান্ডারের নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে তিনি এ পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দেন।
অন্যদিকে, গুগল প্লে ও হোয়াটসঅ্যাপের ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে ইরান। ইউটিউব ও টেলিগ্রামের ক্ষেত্রে দেশটির সঙ্গে আলোচনা এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে এসব প্ল্যাটফর্ম কবে নাগাদ চালু হতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।
২০২২ সাল থেকে স্টারলিংক ইরানের কিছু নাগরিককে সরকারি বিধিনিষেধ এড়িয়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে আসছে। ধারণা করা হয়, চোরাচালানের মাধ্যমে দেশটিতে হাজার হাজার স্টারলিংক টার্মিনাল আনা হয়েছে। তবে উচ্চ ব্যয়, সীমিত প্রাপ্যতা ও গ্রেফতারের ঝুঁকির কারণে অধিকাংশ ইরানি এখনো দেশটির নিয়ন্ত্রিত ইন্টারনেট ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।



