...|...|...

বিশ্ব

সাবমেরিন থেকে দুই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১১:২৩ | আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১১:৫৫
Shares
সাবমেরিন থেকে দুই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া

ছবি: সংগৃহীত

সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য দুই ধরনের কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দেশটির পূর্ব উপকূলের সমুদ্রে এ পরীক্ষা চালানো হয় বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ।

কেসিএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ প্রতিরোধ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা যাচাই এবং কৌশলগত সামরিক অভিযান পরিচালনায় নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোই ছিল এ পরীক্ষার উদ্দেশ্য।

পরীক্ষা করা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটি ‘পুলহওয়াসাল-৩-৩১’ মডেলের। গত সপ্তাহে স্থলভাগ থেকে যে কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর কথা জানিয়েছিল পিয়ংইয়ং, এটিও একই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র। পরীক্ষাগুলো পর্যবেক্ষণ করেন দেশটির ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা। কেসিএনএর দাবি, এসব পরীক্ষায় প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তার ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।

উত্তর কোরিয়ার কাছে পুরোপুরি কার্যকর আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন রয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে সাবমেরিন নির্মাণ ও ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা বাড়ানো দেশটির নেতা কিম জং উনের সামরিক অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।

গত বছর দেশের সাবমেরিন উৎপাদনকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার পারমাণবিক সাবমেরিন চুক্তির সমালোচনা করেন কিম। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে সেখানে ৮ হাজার ৭০০ টন ওজনের একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন নির্মাণাধীন অবস্থায় দেখা যায়। ওই চুক্তিকে কোরীয় উপদ্বীপের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলেও অভিহিত করেন তিনি।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ধারাবাহিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। চলতি সপ্তাহের শুরুতে পূর্ব উপকূলের সমুদ্রে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে দেশটি। এর আগে গত ৩ অক্টোবর একটি হাইপারসনিক মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাও চালায় পিয়ংইয়ং।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়াও নিজেদের হাইপারসনিক অস্ত্রের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। গত সপ্তাহে দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং একটি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করেন। দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, অস্ত্রটি পুরোপুরি তৈরি হলে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আকস্মিক হামলার সক্ষমতা বাড়বে।

দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে সীমান্তের অসামরিক অঞ্চলে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের ঘটনায়। দক্ষিণ কোরিয়ার অভিযোগ, উত্তর কোরিয়ার বাহিনী প্রায় এক বছর আগে সেখানে ল্যান্ডমাইন পুঁতে রেখেছিল। এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চেয়েছে সিউল।

২০২৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘বৈরী রাষ্ট্র’ হিসেবে বিবেচনার নীতি গ্রহণের পর সীমান্ত এলাকায় সামরিক স্থাপনা নির্মাণ জোরদার করেছে পিয়ংইয়ং। অন্যদিকে, ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে কোরীয় উপদ্বীপে কূটনৈতিক তৎপরতা অনেকটাই স্থবির।