পানামায় গত সপ্তাহে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ৭৪৬টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে ভূমিকম্পের কারণে পরিবর্তন ঘটেছে কি না, তা নিয়ে গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে শনিবার (১৭ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু।
পানামা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক নেস্তর লুক সংবাদমাধ্যম লা প্রেসনাকে বলেন, ‘তত্ত্ব ও ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, এ মাত্রার ভূমিকম্পের পর এক থেকে দুই মাস পর্যন্ত আফটারশক চলতে পারে।’
লুক জানান, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটারেরও কম গভীরে। এর ফলে নির্গত শক্তি এখনও ভূত্বকের টেকটোনিক ব্লকগুলোকে পুনরায় সমন্বিত হতে বাধ্য করছে। তবে ভূকম্পনসংক্রান্ত রেকর্ডে দেখা গেছে, পরাঘাতগুলোর মাত্রা ধীরে ধীরে কমছে।
লুকে আরও জানান, চিরিকি ও বোকাস দেল তোরো এলাকায় রেকর্ড করা ভূমিকম্পগুলো পৃথক ফল্ট বা ভূত্বকের ফাটলব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। সেগুলো ৯ অক্টোবরের ভূমিকম্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, এমনটা নিশ্চিত নয়।
পানামার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের বিভিন্ন স্থানে পরিবর্তন ঘটেছে বলে পাওয়া খবর খতিয়ে দেখছেন গবেষকেরা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কিছু এলাকায় আগে পানির নিচে থাকা পাথর এখন দৃশ্যমান হয়েছে। কোথাও কোথাও সমুদ্রের পানি সরে গেছে বলেও মনে হচ্ছে।
লুকে ব্যাখ্যা করেন, ফল্টের নড়াচড়ার কারণে উপকূলীয় ভূমি উঁচু হয়ে যেতে পারে বা নিচে নেমে যেতে পারে। এতে ভূ-পৃষ্ঠের আকৃতি পরিবর্তিত হয়। ভূতাত্ত্বিকেরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরীক্ষা করে দেখবেন, ফল্টের নড়াচড়ার কারণেই এসব পরিবর্তন ঘটেছে কি না।
পানির রঙ পরিবর্তনের খবরও তদন্ত করছেন গবেষকেরা। কিছু এলাকায় পানির রং ধূসর হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। লুকের মতে, ভূমিকম্পের সময় নির্গত খনিজ পদার্থের সংস্পর্শে ভূগর্ভস্থ পানি আসার কারণে এমনটি ঘটে থাকতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজন রাসায়নিক পরীক্ষার।
পানামার দক্ষিণাঞ্চলীয় লস সান্তোস প্রদেশের ইসলা কানাসের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পর দ্বীপটিকে দুই ভাগ হয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে। লুকে বলেন, দ্বীপজুড়ে ফাটল তৈরি হয়েছে কি না এবং সেগুলো সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করবেন ভূতাত্ত্বিকেরা।
এদিকে, ভূবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুযায়ী, পানামায় ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে প্রায় ১৫০টি যন্ত্র প্রয়োজন হবে। আর দেশজুড়ে আগাম সতর্কতাব্যবস্থা চালু করতে লাগতে পারে ৭০০টি সেন্সর।

