...|...|...

বিশ্ব

সমগ্র তুরস্কজুড়ে লাখ লাখ ড্রোন তৈরির পরিকল্পনা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১:৪৭
Shares
সমগ্র তুরস্কজুড়ে লাখ লাখ ড্রোন তৈরির পরিকল্পনা

ছবি: সংগৃহীত

সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দ্রুত সামরিক চাহিদা মেটাতে ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে তুরস্ক। এ লক্ষ্যে দেশটির ৮১টি প্রদেশে ড্রোন প্রশিক্ষণ ও উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে যুদ্ধের সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একযোগে বিপুলসংখ্যক ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা, বিমান ও মহাকাশশিল্পভিত্তিক সংগঠন সাহা ইস্তাম্বুলের প্রধান এবং ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বায়কারের প্রধান নির্বাহী হালুক বায়রাকতার এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তার মতে, দেশজুড়ে উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হলে যুদ্ধকালীন সময়ে লাখ লাখ ড্রোন তৈরির সক্ষমতা অর্জন করা যাবে।

পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ে তুরস্কের সাতটি ভৌগোলিক অঞ্চলের সাতটি শহরে ড্রোন প্রশিক্ষক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শহরগুলো হলো ইস্তাম্বুল, আঙ্কারা, ইজমির, আনতালিয়া, সামসুন, এরজুরুম ও গাজিয়ানতেপ।

২০ অক্টোবর তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ কর্মসূচির তথ্য উঠে আসে। এতে সাহা ইস্তাম্বুলের পাশাপাশি টি৩ ফাউন্ডেশন, তুরস্কের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত গবেষণা পরিষদ (TÜBİTAK) এবং দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ যুক্ত রয়েছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে ফার্স্ট-পারসন ভিউ (এফপিভি) ড্রোন প্রযুক্তিতে দক্ষ প্রশিক্ষক তৈরি করা হবে। পরবর্তী সময়ে এসব প্রশিক্ষকের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই কর্মসূচিতে শুধু ড্রোন পরিচালনার দক্ষতা অর্জন নয়, বরং ড্রোনের প্রযুক্তিগত দিক সম্পর্কেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে তাত্ত্বিক শিক্ষা, সিমুলেটরের সাহায্যে অনুশীলন, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংযোজন এবং বাস্তবে ড্রোন উড়িয়ে পরীক্ষা করা।

এর মাধ্যমে তরুণদের ড্রোন পরিচালনা, নির্মাণ ও পরীক্ষার কাজে দক্ষ করে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এই প্রশিক্ষিত জনবল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ড্রোন উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সাহা ইস্তাম্বুলের প্রধান হালুক বায়রাকতার জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের সাহা প্রতিরক্ষা, বিমান ও মহাকাশশিল্প প্রদর্শনী থেকে পাওয়া আয় দেশজুড়ে প্রশিক্ষণ ও উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনে ব্যয় করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় কেন্দ্রটি গড়ে তোলা হবে ইস্তাম্বুলে।

বায়রাকতারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাহা ইস্তাম্বুলের সদস্যসংখ্যা ১ হাজার ৩০০-এর বেশি। তুরস্কের প্রতিরক্ষাশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩ হাজারেরও বেশি। এসব প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা ও শিল্পভিত্তিক নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে ড্রোন প্রশিক্ষণ এবং উৎপাদন কার্যক্রম বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তুরস্কের এ পরিকল্পনার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ড্রোন উৎপাদনকে কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া। এতে কোনো একটি কারখানার ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে একাধিক স্থানে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আধুনিক যুদ্ধে নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও লক্ষ্য শনাক্তকরণসহ বিভিন্ন সামরিক কাজে ড্রোনের ব্যবহার বাড়ছে। ফলে দ্রুত ড্রোন উৎপাদন, মেরামত ও সরবরাহের সক্ষমতা সামরিক প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তুরস্কের এই উদ্যোগও সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখে নেওয়া হয়েছে।

তবে যুদ্ধের সময় লাখ লাখ ড্রোন উৎপাদনের বিষয়টি এখনো পরিকল্পিত লক্ষ্যমাত্রা। দেশটির ৮১টি প্রদেশে কেন্দ্র স্থাপন এবং সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।

সব মিলিয়ে, তুরস্কের এই উদ্যোগ ড্রোন প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল তৈরি, উৎপাদনব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণ এবং সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সামরিক সরঞ্জামের সরবরাহ সচল রাখার দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টা। পরিকল্পনাটি কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে দেশটির প্রত্যাশিত উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।