...|...|...

বিশ্ব

মার্কিন নির্ভরতা কমাতে তুরস্কের সাথে কানাডার নতুন জোট

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১:৪৭
Shares
মার্কিন নির্ভরতা কমাতে তুরস্কের সাথে কানাডার নতুন জোট

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ছবি: সংগৃহীত

বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে নতুন কৌশলগত অংশীদারত্বের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা ও তুরস্ক। এ লক্ষ্যে চারটি অগ্রাধিকার খাতকে কেন্দ্র করে তিন বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন দেশ দুটির নেতা। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের যৌথ বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও পরিবর্তনশীল মানবিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশের স্থিতিশীল অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কার্নির দুই দিনের তুরস্ক সফরের মধ্যে এ ঘোষণা এল। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কৌশলগত অংশীদারত্বের পরিসর বাড়ানোর যে উদ্যোগ কানাডা নিয়েছে, নতুন এ চুক্তি সেই প্রচেষ্টার অংশ।

আঙ্কারায় যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান জানান, বর্তমানে কানাডা ও তুরস্কের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার। প্রথম ধাপে তা ৫ বিলিয়ন এবং পরবর্তী সময়ে ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে চায় দুই দেশ।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চলতি বছরের শেষ নাগাদ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরুর বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে। যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, আগামী মাসে আঙ্কারায় এ বিষয়ে প্রথম দফার আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এরদোয়ান বলেন, দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করা কেবল আনুষ্ঠানিক বা প্রতীকী পদক্ষেপ নয়। দীর্ঘদিনের দূরত্ব কাটিয়ে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নতুন কর্মপরিকল্পনায় জ্বালানি সরবরাহ, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, মহাকাশ ও উড়োজাহাজশিল্প এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (এআই) বিভিন্ন অগ্রাধিকার খাতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নতুন অংশীদারত্বের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা। দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় পর্যায়ে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন দুই নেতা।

ইউরো-আটলান্টিক অঞ্চল এবং এর বাইরেও শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এ ক্ষেত্রে ইউক্রেন, দক্ষিণ ককেশাস ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি গুরুত্ব পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে গাজার নিরাপত্তা পরিস্থিতিও রয়েছে।

প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, প্রযুক্তি বিনিময় এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টিও পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জ্বালানি খাতেও যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কানাডা ও তুরস্কের জ্বালানিমন্ত্রীরা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), পারমাণবিক জ্বালানি এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ নিয়ে কাজ করবেন। পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও কৌশলগত খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মধ্যে নিজেদের আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব বহুমুখী করার চেষ্টা করছে কানাডা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের আরোপ করা শুল্ক, এর জবাবে কানাডার পাল্টা ব্যবস্থা এবং দেশটির সার্বভৌমত্ব নিয়ে ট্রাম্পের বিভিন্ন বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্কে চাপ তৈরি করেছে।

এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও নতুন বাজার, বিনিয়োগের সুযোগ ও কৌশলগত অংশীদার খুঁজছে অটোয়া। তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারকে সেই উদ্যোগেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কার্নির এ সফর কানাডার কোনো প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দ্বিপক্ষীয় তুরস্ক সফর। এর আগে গত জুলাইয়ে ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নিতেও তিনি আঙ্কারা সফর করেছিলেন।

তুরস্ক সফরে এরদোয়ান ও দেশটির অন্যান্য কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি ইস্তাম্বুলে তুর্কি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গেও আলোচনার কথা রয়েছে কার্নির। এসব আলোচনায় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ খোঁজার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

নতুন কৌশলগত অংশীদারত্বের ফলে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে কানাডা-তুরস্ক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে আগামী দিনের আলোচনা ও বাস্তবায়নই হবে মূল নির্ধারক।

সূত্র: আল-জাজিরা