বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বেলা তিনটা থেকে সংসদের অধিবেশনে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সংসদ সদস্যরা।
সংসদের এই অধিবেশনে দিনের কর্মসূচিতে জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংসদ সদস্যদের নানা প্রস্তাবের পাশাপাশি গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬ উত্থাপনের কথা রয়েছে।
এই দুটি আইনের খসড়া নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা–সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাই সংসদের এই অধিবেশনে এ দুটি বিল নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। পাশাপাশি চলমান বিদ্যুৎ-গ্যাস, সারসংকটের মতো বিষয় নিয়ে সংসদে উত্তাপ তৈরি হতে পারে।
সাধারণত বছরের এই সময়ে ডাকা সংসদের অধিবেশন খুব একটা দীর্ঘ হয় না। অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটি এই অধিবেশন কত দিন চলবে, তা ঠিক করবে।
গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তির শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার সংরক্ষণের এই বিল উত্থাপন করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, এবারের অধিবেশনে কয়েকটি বিল উত্থাপন ও পাস করা হতে পারে। এখন পর্যন্ত গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিলসহ তিনটি বিল সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা হয়েছে। আরও কয়েকটি বিল আসার কথা। সব মিলিয়ে এই অধিবেশন ১০–১১ কার্যদিবস চলতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। নিয়মানুযায়ী, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে এগুলো সংসদে উপস্থাপন করা হয়। এগুলো অনুমোদন বা অননুমোদনের শেষ সময় ছিল ১০ এপ্রিল।
নির্ধারিত সময়ে ১৬টি অধ্যাদেশ বিল আকারে আনা হয়নি। ফলে এগুলো কার্যকারিতা হারায়। আর সাতটি অধ্যাদেশ রহিতকরণ বিলের মাধ্যমে বাতিল করা হয়।
গুম প্রতিরোধ, পুলিশ কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশসহ যে ১৬ অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ে বিল আকারে আনা হয়নি, সেগুলো আরও যাচাই–বাছাই করে নতুন বিল আনার কথা বলেছিল সরকার। এর একটি গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ।
অন্যদিকে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন–সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ রহিত করে ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুনঃপ্রচলনে এই সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিল পাস করা হয়েছিল। তখন অধিকতর যাচাই–বাছাই করে মানবাধিকার কমিশন আইন আরও শক্তিশালী করার কথা বলেছিল সরকার।
এর মধ্যে গত ৩ আগস্ট গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়া অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের খসড়া অনুমোদন করা হয় ১০ আগস্ট। এই দুটি আইনের খসড়া অনুমোদন করার পর থেকে মানবাধিকারকর্মী, রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন পক্ষ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। খসড়ার কিছু বিষয় নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে।
কার্যপ্রণালিবিধিতে নতুন সংসদ যাত্রা শুরুর প্রথম তিনটি অধিবেশনের মধ্যে মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটি গঠনের বাধ্যবাধকতা আছে। এই অধিবেশনে বাকি ৩৫টি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হবে।
আবদুল মঈন খান ও আন্দালিভ রহমান পার্থ যথাক্রমে পরিকল্পনা এবং আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছিল। তাঁরা মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় এই দুটি কমিটিও পুনর্গঠন করতে হবে।
এছাড়া ট্রান্সফার অব প্রোপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬- আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জাতীয় সংসদে উত্থাপন করবেন বলেও জানানো হয়েছে।


