চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে একান্ত বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (২৬ জুন) বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে দ্বিপক্ষীয় সভার পর এ বৈঠক হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের মহামান্য রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সাথে একান্ত বৈঠক করেছেন। এটা একেবারে নজিরবিহীন।
‘চীনের মান্যবরের সাথে জনাব তারেক রহমান সাক্ষাৎ করেছেন, বৈঠকে হয়েছে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয়াদি নিয়ে। সেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ছিলেন। এই বৈঠকের পর আবার আলাদাভাবে একান্ত বৈঠক এটা নজিরবিহীন।’
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এই একান্ত বৈঠকের মধ্য দিয়ে আপনারা বুঝতে পারেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে কতটুকু গুরুত্ব দেন এবং বাংলাদেশকে কীভাবে চীনের রাষ্ট্রপতি তথা চীনের সরকার দেখে থাকে।’
বেইজিং সফরের শেষ দিনে স্থানীয় সময় সকাল পৌনে ১১টায় গ্রেট হলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৫০ মিনিটের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক বসে। এর পরপরই দুই নেতার মধ্যে একান্ত বৈঠক হয়।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, চীনের প্রেসিডেন্টের সাথে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) জাদুঘর পরিদর্শন করেন।
রুমন জানান, এদিন সকাল সোয়া ৯টায় সফর সঙ্গীদের সাথে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তিয়েনআনমেন স্কয়ারে চীনের বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। এরপর তিনি ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ন্যাশনাল স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সাথে সাক্ষাৎ করেন।
সফর শেষে এদিনই বিকাল ৫টায় বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা করবেন প্রধানমন্ত্রী ও তার সফর সঙ্গীরা। বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার পর তাদের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর তারেক রহমান প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে গত ২১ জুন মালয়েশিয়া যান। ওই সফরের আনুষ্ঠানিকতা সেরে পরদিন সোমবার তিনি পৌঁছান চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর তালিয়ানে।
সেখানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে বুধবার বিকালে তারেক রহমানের বেইজিংয়ে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার গ্রেট হল অব দ্য পিপলে তার ও চীনের প্রধানমন্ত্রীর লি ছিয়াংয়ের নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। তাদের উপস্থিতিতে বিনিয়োগ, গণমাধ্যম সহযোগিতাসহ ১৩টি বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই করে দুই দেশ। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে সেখানে ভোজসভার আয়োজন করেন লি ছিয়াং।
সেদিন সকালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি) নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াতে আরেকটি সমঝোতা স্মারকে সই করে।
বৃহস্পতিবার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘তিয়াওইউথাই’ থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে গ্রেট হলে পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী।


