যেকোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্যকালে এমনটা জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধীরে ধীরে আমরা জাতির সামনে একটি আশার আলো তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছি। আমি এই বাজেটকে জীবনবান্ধব বাজেট নাম দিতে চাই।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা মাথায় রেখে এবং সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের স্বস্তির কথা চিন্তা করে অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সাথে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৮ ফেব্রুয়ারি সংসদ অধিবেশন শুরুর পর বিভিন্ন চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ আমরা এখানে এসেছি। সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে বিরোধী দলের সাথে দ্বিমত থাকলেও, আলোচনার মাধ্যমে দেশের স্বার্থে জাতীয় সংসদে একটি গণতান্ত্রিক ও সভ্য পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। তিনি সংসদ সদস্যসহ দেশের ২০ কোটি মানুষকে এই অর্জনের কৃতিত্ব দেন, যাদের সহযোগিতায় দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে পেয়েছে।
৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতির কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে সময় দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতসহ সামগ্রিক পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয় ছিল। সেই কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে পর্যায়ক্রমে একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক কাঠামোয় ফিরিয়ে আনতে সরকার সক্ষম হয়েছে। অতীতের ভালো-মন্দের বিতর্কে না জড়িয়ে তিনি দেশের মানুষের ভবিষ্যতের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, বাজেট একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় বিষয়। সব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান করা বাস্তবসম্মত নয়, তা সত্ত্বেও সরকারের সর্বোচ্চ চেষ্টা ছিল একটি বাস্তবমুখী বাজেট উপস্থাপনের। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬১টি পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি জনগণ ও নারীদের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। তিনি গর্ব করে বলেন, এই শুল্ক ছাড়ের ফলে বাজেট ঘোষণার আগে ও পরে অতীতের মতো নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবার আর দেখা যায়নি, যা জনগণের প্রতি সরকারের দায়িত্বশীলতার একটি বড় প্রমাণ।
পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি দল হিসেবে জনগণের প্রতি থাকা দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে দেশের মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারার সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।


