যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) সর্বোচ্চ মানবাধিকার পুরস্কার ‘সাখারভ প্রাইজ’ দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। আন্তর্জাতিক আইন ও বিচার প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
পুরস্কার ঘোষণার সময় ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট রবার্টা মেটসোলা বলেন, বহুপক্ষীয় সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। আন্তর্জাতিক আইন ও বিচার সমুন্নত রাখতে আইসিসির গুরুত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি এই পুরস্কার।
সম্মাননার জন্য ইউরোপীয় পার্লামেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়েছে আইসিসি। আদালতের প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে বলেন, নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা আদালত ও এর কর্মকর্তাদের জন্য এ পুরস্কার বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এটি স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের প্রতি সমর্থনের প্রতিফলন।
হেগভিত্তিক আইসিসির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ দীর্ঘদিনের। ২০২৪ সালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আদালতটির বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের অবস্থান আরও কঠোর হয়।
সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসন আইসিসির কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতে নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, আদালতের সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন নিষিদ্ধ করা হবে এবং এর সম্পদ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। ওয়াশিংটনের দাবি, আইসিসির যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিচার করার এখতিয়ার নেই।
আইসিসি যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মতো গুরুতর অপরাধে ব্যক্তিদের বিচার করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র আদালতের বিচারক ও কৌঁসুলিদের পাশাপাশি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘের এক বিশেষ র্যাপোর্টার এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা কয়েকটি গোষ্ঠীর ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
এদিকে, আইসিসির প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেছেন, কোনো ধরনের চাপ বা ভীতি প্রদর্শন ছাড়াই আদালতকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মোকাবিলা করে আইসিসির কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইইউ। এ লক্ষ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি সম্ভাব্য সুরক্ষামূলক আইন প্রণয়নের বিষয়টিও বিবেচনা করছে জোটটি।


