...|...|...

খেলা

মেসি-এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে নতুন উচ্চতায় ইয়ামাল

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২:৪২
Shares
মেসি-এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে নতুন উচ্চতায় ইয়ামাল

লামিন ইয়ামাল। ছবি: সংগৃহীত

বার্সেলোনার হয়ে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন স্প্যানিশ তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। ডান প্রান্ত দিয়ে একের পর এক দুর্দান্ত দৌড়, মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোলের উৎস তৈরি এবং ম্যাচসেরার স্বীকৃতি সব মিলিয়ে ইউরোপীয় ফুটবলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে চলেছেন তিনি। চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে ১০ ম্যাচে ৮ গোল ও ৯টি অ্যাসিস্ট করেছেন ১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। তার এমন পারফরম্যান্সে নতুন করে আলোচনায় এসেছে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের সাথে তুলনা।

চলতি মৌসুমের আট সপ্তাহে ক্লাব ফুটবলে ১০ ম্যাচে ইয়ামালের গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে অবদান ১৭টি। ২০০৮-০৯ মৌসুমে ১৯ বছর বয়সে নিজের প্রথম ব্যালন ডি’অর জয়ের বছরে বার্সেলোনার হয়ে লিওনেল মেসির প্রথম ১০ ম্যাচে গোল অবদান ছিল ১৪টি  ৮ গোল ও ৬ অ্যাসিস্ট। অন্যদিকে, ২০১৭ সালে ১৮ বছর বয়সে প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ে যোগ দেওয়া এমবাপ্পে ১৯ বছর বয়সে নিজের প্রথম ১০ ম্যাচে ১২ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করেছিলেন। সেই হিসাবে একই সংখ্যক ম্যাচে ইয়ামালের বর্তমান গোল অবদান এমবাপ্পের চেয়ে এক বেশি।

তবে ইয়ামালের এই পারফরম্যান্সকে তার ক্যারিয়ারের প্রথম উত্থান বলা যাবে না। ২০২৩-২৪ মৌসুমে মাত্র ১৬ বছর বয়সে বার্সেলোনার মূল দলে জায়গা করে নিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। বিশ্বকাপ জয়ের পর ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে ফুটবলবিশ্বে তার অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে।

ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে ইয়ামাল

ব্যালন ডি’অর জয়ের আকাঙ্ক্ষা গোপন রাখেননি ইয়ামাল। তবে এই পুরস্কারের দৌড়ে তার সামনে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গোলের পর গোল করে চলেছেন এমবাপ্পে। ২০২৪ সালে পিএসজি ছেড়ে স্প্যানিশ ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার আগে ফরাসি ক্লাবটির হয়ে দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছেন তিনি। গত মাসে চ্যাম্পিয়নস লিগে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে রিয়ালের জয়ের ম্যাচেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এই ফরোয়ার্ড।

বার্সেলোনার ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় মেসির সাথে ইয়ামালের তুলনা নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে পুরো ক্যারিয়ার বিবেচনায় দুজনকে তুলনা করা যথাযথ নয়। তারপরও কিছু পরিসংখ্যানে মিল রয়েছে তাদের। লা লিগায় নিজেদের প্রথম পাঁচ ম্যাচে একাধিক গোল করার কীর্তি রয়েছে দুজনেরই। মেসি ২০১২-১৩ মৌসুমে ২৫ বছর বয়সে এই কীর্তি গড়েন, আর ইয়ামাল তা করেছেন চলতি মৌসুমে।

২০০৭ সালের এপ্রিলে গেতাফের বিপক্ষে নিজের অর্ধ থেকে বল নিয়ে পাঁচ প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে মেসির করা বিখ্যাত একক গোলটি ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে। ওই বছরের জুলাইয়ে জন্ম হয় ইয়ামালের। একই বছরের একটি ছবি এ বছর নতুন করে ভাইরাল হয়, যেখানে শিশু ইয়ামালকে কোলে নিয়ে গোসল করাতে দেখা যায় মেসিকে।

বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যুতে ইউনিসেফের তহবিল সংগ্রহের একটি ফটোশুটে তোলা হয়েছিল ছবিটি। তখন মেসির বয়স ছিল ২০ বছর, আর ইয়ামালের মাত্র পাঁচ মাস। চলতি বছরের বিশ্বকাপের সময় ছবিটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। প্রথমে অনেকে এটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বলে ধারণা করলেও পরে জানা যায়, ছবিটি বাস্তব।

বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি মেসি ও ইয়ামাল

১৯ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হন মেসি ও ইয়ামাল। ১৯ জুলাইয়ের সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনার মেসি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, আর ইয়ামালের স্পেন বিশ্বকাপ জয়ের উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে। ম্যাচের আগে ৩৯ বছর বয়সী মেসি ও ১৯ বছর বয়সী ইয়ামালের দ্বৈরথকে অনেকে ‘গুরু বনাম শিষ্য’ লড়াই হিসেবে দেখেছিলেন। ফাইনালের পর দুজন উষ্ণ আলিঙ্গনও করেন।

পরে নিউইয়র্কে মাঠের মধ্যে মেসিকে কী বলেছিলেন, তা প্রকাশ করেন ইয়ামাল। ব্রিটিশ একটি সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “ফুটবলকে আপনি যা কিছু দিয়েছেন, তার জন্য আমি আপনাকে ধন্যবাদ জানালাম।”

এখন বার্সেলোনার হয়ে মেসির বিভিন্ন রেকর্ডের দিকে এগোচ্ছেন ইয়ামাল। ক্লাবটির হয়ে দুজনের ১৫০তম ম্যাচ খেলার সময় বয়স কত ছিল, তা নিয়েও তুলনা শুরু হয়েছে।

ইয়ামালকে নিয়ে মুগ্ধ বার্সা কোচ

চলতি মৌসুমে লা লিগায় ইয়ামালের ব্যক্তিগত গোলসংখ্যা কয়েকটি দলের সম্মিলিত গোলের চেয়েও বেশি। লিগে তার সাত গোলের বিপরীতে ভ্যালেন্সিয়া করেছে ছয়টি, গেতাফে চারটি এবং মালাগার গোলসংখ্যা চার।

ইয়ামালের এমন পারফরম্যান্সে মুগ্ধ বার্সেলোনার কোচ হান্সি ফ্লিকও। ইস্তাম্বুলে গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয়ের পর দলের ১০ নম্বর জার্সিধারীকে প্রশংসায় ভাসান তিনি।

ফ্লিক বলেন, “প্রতিটি অনুশীলনী সেশনে লামিন যে ধরনের সুযোগ তৈরি করে, ম্যাচের ক্ষেত্রেও ঠিক তা-ই দেখা যায়। আমার দলে অনেক উচ্চমানের খেলোয়াড় রয়েছে। সবাই লামিনের দিকে তাকিয়ে থাকে এটি খুবই স্বাভাবিক।”

তিনি আরও বলেন, “এমন খেলোয়াড় থাকাটা দারুণ ব্যাপার সে আমাদের জন্য খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।”

বার্সেলোনা কোচের বক্তব্যে স্পষ্ট, ইয়ামালের প্রতিভা ও মাঠে প্রভাব দলের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বয়স মাত্র ১৯ হলেও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে তিনি এখন ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম আলোচিত তারকা।