...|...|...

খেলা

চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ভিনিসিয়ুসের পাল্টা জবাব

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১১:০৮
Shares
চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ভিনিসিয়ুসের পাল্টা জবাব

ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ছবি: সংগৃহীত

সময়টা ভালো যাচ্ছে না রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের। লা লিগায় চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা, মাঠে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ এবং এএস রোমার বিপক্ষে ম্যাচে বদলি হওয়া সব মিলিয়ে নানা আলোচনায় রয়েছেন তিনি। তবে সমালোচনা ও হতাশার মধ্যেও নিজের সেরা ছন্দে ফেরার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী এই তারকা।

এএস রোমার বিপক্ষে ৪-৩ ব্যবধানের নাটকীয় জয়ের পর নিজের নিষেধাজ্ঞা ও বদলি হওয়া নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান ভিনিসিয়ুস। শাস্তির সময় নির্ধারণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমার মনে হয় শাস্তির সময়টা মোটেও সঠিক হয়নি। সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য তাদের পুরো দিন পড়েছিল, অথচ আমি স্টেডিয়ামে আসার পর তা জানতে পারি। এটি একটি নতুন নিয়ম, আর লা লিগার কর্তারা সাধারণত নতুন কোনো পরিবর্তন আসলে আমাদের এসে বুঝিয়ে দেন, কিন্তু এবার তা করেননি।”

এর আগে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ১-০ গোলে জয়ের ম্যাচে গোল করেছিলেন ভিনিসিয়ুস। তবে ভিএআর পর্যালোচনার পর তার গোল বাতিল করা হয়। একই ম্যাচে ভিয়ারিয়ালের ডিফেন্ডার নাথান সালিবার চুল টানার অভিযোগে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে মাঠেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই ব্রাজিলিয়ান। একপর্যায়ে রেফারির দিকে এগিয়ে গেলে সতীর্থ আন্তোনিও রুডিগার তাকে থামান।

পরে সালিবার চুল টানার ঘটনায় দুই ম্যাচ এবং রেফারির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনায় আরও দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পান ভিনিসিয়ুস। সব মিলিয়ে চার ম্যাচ মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাকে। এই শাস্তির কারণে বহুল আলোচিত এল ক্লাসিকোতেও খেলতে পারবেন না রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড।

মাঠের ওই ঘটনা নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ভিনিসিয়ুস বলেন, “আমি ক্যারিয়ারে কখনোই কোনো ফুটবলারের প্রতি আক্রমণাত্মক বা সহিংস আচরণ করিনি। অথচ আমাকে প্রায়ই ফাউল করা হয় এবং সামান্য নিয়ম ভাঙলেই আমাকে হলুদ কার্ড দেখতে হয়।”

এদিকে রোমার বিপক্ষে ম্যাচেও প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরম্যান্স করতে পারেননি ভিনিসিয়ুস। প্রথমার্ধের পর কোচ হোসে মরিনহো তাকে তুলে নিয়ে তরুণ এন্ড্রিককে মাঠে নামান। পরে ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এন্ড্রিক। বদলি হওয়া নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ভিনিসিয়ুস বলেন, “মাঠ থেকে তুলে নিলে রাগ হওয়া স্বাভাবিক, কারণ আমি সবসময় সেরাটা দিয়ে দলকে সাহায্য করতে চাই। তবে বদলি ফুটবলাররাই ম্যাচের চিত্র বদলে দিয়েছে। এন্ড্রিক এসে গেমের গতি পরিবর্তন করেছে এবং সেই ছিল সেরা খেলোয়াড়। এছাড়া কার্লোস (এস্পি) অল্প সময়ের জন্য নেমেও গোল করেছে।”

নিজের পারফরম্যান্সের ঘাটতি স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, “নিজের ওপর রাগ হচ্ছে যে আমি সেরা ছন্দে ছিলাম না। তবে দিনশেষে ভিনি ঠিকই ঘুরে দাঁড়ায় এবং এবারও ঘুরে দাঁড়াব। এ নিয়ে আমার মনে কোনো সন্দেহ নেই।”

সম্প্রতি সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে সমর্থকদের একাংশের দুয়ো শুনতে হয়েছে ভিনিসিয়ুসকে। এ বিষয়ে তার বক্তব্য, সমর্থকদের এমন আচরণ খেলোয়াড়দের কাজে আসে না। তবে টিকিট কেটে খেলা দেখতে আসায় নিজেদের মত প্রকাশের অধিকার তাদের রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। ভিনিসিয়ুস বলেন, “সমর্থকদের দুয়ো কোনো কাজে আসে না, তবে তারা টিকিট কেটে খেলা দেখতে আসেন, তাই মন্তব্য করার অধিকার তাদের আছে। কিন্তু ভক্তরা পাশে থাকলে আমরা ভালো খেলি। তখন বেলিংহাম ভালো খেলে, এমবাপ্পে ভালো খেলে, আমিও ভালো খেলি। আমি দলের অন্যতম অধিনায়ক এবং দীর্ঘদিন ধরে এখানে আছি বলেই হয়তো আমাকে দুয়ো দেওয়াটা সহজ।”

সমর্থকদের আশ্বস্ত করে ২৬ বছর বয়সী এই ফুটবলার বলেন, “আমি অবশ্যই আগের রূপে ফিরব। যখন খুব কম বয়সে এখানে এসেছিলাম, অনেকেই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করেছিল। কিন্তু দিনশেষে এই রিয়ালের হয়েই আমি একশর বেশি গোল করেছি।”

রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এখন পর্যন্ত ৩৮৫টি ম্যাচ খেলেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এসব ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ১২৯, পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়েছেন ১০৩টি। নিষেধাজ্ঞা ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনার মধ্যেও নিজের ছন্দ ফিরে পাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।