...|...|...

বিশ্ব

ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ দেওয়া শীর্ষ ১০ দেশ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৩:২৩ | আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৩:২৭
Shares
ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ দেওয়া শীর্ষ ১০ দেশ

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে অবাধ ও ঝামেলাহীন যাতায়াতের ক্ষেত্রে কোন দেশের পাসপোর্ট কতটা শক্তিশালী, তা নির্ধারণ করে হেনলি পাসপোর্ট সূচক। ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসের সর্বশেষ প্রকাশিত হেনলি পাসপোর্ট সূচক অনুযায়ী, পূর্বানুমতি বা ভিসা ছাড়াই সর্বাধিক গন্তব্যে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর।

আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা-র তথ্য এবং হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের গবেষণার ভিত্তিতে বিশ্বের ১৯৯টি পাসপোর্ট এবং ২২৭টি গন্তব্যের তুলনামূলক পর্যালোচনার মাধ্যমে এই সূচক তৈরি করা হয়েছে। ভ্রমণের পূর্বে কোনো ভিসা ছাড়া কিংবা অন-অ্যারাইভাল ভিসা ও ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশনের সুবিধা অনুযায়ী এই র‍্যাঙ্কিং নির্ধারণ করা হয়।

২০২৬ সালের প্রকাশিত বিশ্বসেরা শক্তিশালী পাসপোর্টের শীর্ষ ১০ দেশের তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো:

১. সিঙ্গাপুর (র‍্যাঙ্ক ১ – ১৯৩টি গন্তব্যে প্রবেশাধিকার): বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। ইউরোপ, এশিয়া, আমেরিকা ও অন্যান্য অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে দেশটি এই অবস্থান অর্জন করেছে। ফলে ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভ্রমণে সিঙ্গাপুরের পাসপোর্ট অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

২. জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (যৌথ র‍্যাঙ্ক ২ – ১৮৮টি গন্তব্যে প্রবেশাধিকার): জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ইউএই আরব দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে থেকে বিশ্বব্যাপী তাদের কূটনৈতিক অংশীদারিত্ব ও আন্তর্জাতিক যাতায়াত ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতির প্রমাণ দিয়েছে।

৩. সুইডেন (র‍্যাঙ্ক ৩ – ১৮৭টি গন্তব্যে প্রবেশাধিকার): ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউরোপীয় ভ্রমণ নেটওয়ার্কের সদস্য হিসেবে সুইডেন তৃতীয় স্থান দখল করেছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা দেশগুলোর চেয়ে মাত্র এক ধাপ পিছিয়ে রয়েছে দেশটি।

৪. ফ্রান্স এবং ১০টি ইউরোপীয় দেশ (যৌথ র‍্যাঙ্ক ৪ – ১৮৬টি গন্তব্যে প্রবেশাধিকার): তালিকায় চতুর্থ স্থান দখল করেছে ১১টি ইউরোপীয় দেশ। এগুলো হলো—বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবুর্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে এবং স্পেন। আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট সূচকে ইউরোপের এই দীর্ঘ আধিপত্য আঞ্চলিক সহযোগিতারই প্রতিফলন।

৫. সুইজারল্যান্ড এবং ৪টি দেশ (যৌথ র‍্যাঙ্ক ৫ – ১৮৫টি গন্তব্যে প্রবেশাধিকার): সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে পঞ্চম স্থান ভাগ করে নিয়েছে অস্ট্রিয়া, গ্রিস, মাল্টা এবং পর্তুগাল। ইইউর সদস্য না হয়েও সুইজারল্যান্ডের পাসপোর্টের বিশ্বজুড়ে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

৬. মালয়েশিয়া এবং ৩টি দেশ (যৌথ র‍্যাঙ্ক ৬ – ১৮৪টি গন্তব্যে প্রবেশাধিকার): সিঙ্গাপুর, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার বাইরে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী পাসপোর্ট হিসেবে মালয়েশিয়া ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেছে। তাদের সঙ্গে এই স্থানে রয়েছে হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্য।

৭. অস্ট্রেলিয়া এবং ৬টি দেশ (যৌথ র‍্যাঙ্ক ৭ – ১৮৩টি গন্তব্যে প্রবেশাধিকার): ওশেনিয়া, উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের সমন্বয়ে গঠিত এই গ্রুপে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চেক প্রজাতন্ত্র, লাটভিয়া, নিউজিল্যান্ড, স্লোভাকিয়া এবং স্লোভেনিয়া।

৮ ও ৯. ক্রোয়াশিয়া, এস্তোনিয়া, লিশটেনস্টাইন ও লিথুয়ানিয়া: তালিকায় অষ্টম ও নবম স্থানে রয়েছে ক্রোয়াশিয়া, এস্তোনিয়া এবং লিশটেনস্টাইন ও লিথুয়ানিয়ার মতো ইউরোপীয় দেশগুলো।

১০. আইসল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্র (যৌথ র‍্যাঙ্ক ১০ – ১৮০টি গন্তব্যে প্রবেশাধিকার): আইসল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে দশম স্থান অধিকার করেছে। অতীতের শীর্ষ অবস্থান থেকে মার্কিন পাসপোর্ট কিছুটা নিচে নেমে এলেও এটি এখনও বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু অর্থনৈতিক প্রভাবই পাসপোর্টের সর্বোচ্চ গতিশীলতার একমাত্র নিশ্চয়তা দেয় না।