...|...|...

সারাদেশ

বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড়

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:১০ | আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:১৭
Shares
বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড়

নিহত জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই আলমগীর শিকদার (ইনসেটে)। ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে জনতার হাতে আটক হওয়া মো. হেলালের সাথে জাহাঙ্গীরের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার চৌধুরীর ৯ মিনিট ১৮ সেকেন্ডের একটি ফোনালাপকে কেন্দ্র করে সামনে এসেছে নতুন কিছু অভিযোগ।

আটক হওয়া ওই ব্যক্তির নাম মো. হেলাল (২৫)। তিনি বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার চালিতাবুনিয়া এলাকার মৃত সুলতানের ছেলে বলে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পরপরই তাকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেন স্থানীয় জনতা। তারপর থেকে হেলাল জেলখানায় বন্দী আছে।

প্রতিবেদককে হাতে আসা ফোনালাপের বর্ণনা অনুযায়ী, জাহাঙ্গীরকে হত্যার উদ্দেশ্যে নয়, বরং তার হাত কেটে ফেলার জন্য ভাড়া করা হয়েছিল বলে দাবি করেন ফোনালাপের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি খুনি হেলাল। এ কাজের জন্য জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই আলমগীর শিকদার তাদের ভাড়া করেছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

অপর প্রান্তে থেকে খেলাল বলেন, যখন আলমগীর শিকদার ভাড়া করে তখন তাদের কাছে বলা হয় যেভাবেই হোক তার (জাহাঙ্গীর) এর একটা হাত কেটে ফেলতে হবে, এতে যদি মারা যায় তাহলে মারা যাক।

ফোনালাপে খুনি হেলাল জাহাঙ্গীরের স্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, তারা পেশাদার খুনি নন। চুরি, ছিনতাই ও মাদকাসক্তির সাথে জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, টাকার লোভে পড়েই তারা এ কাজে জড়িয়েছেন কিন্তু জাহাঙ্গীর মারা যাবে এটা তাদের উদ্দেশ্য ছিলো না। খুনি হেলাল আরোও বলে, আমার একজন বন্ধু আছে রিয়াজ তার সাথে খোকা ভাই এর মাধ্যমে কথা বলেন আলমগীর।

রেকর্ডে আরোও শোনা যায়, পরশুদিন জেলে খোকা ভাই আসছিলো তখন আমাদের কে খুব গালাগালি করে, কুত্তার বাচ্চারা, তোরা আলমগীর ভাই এর নাম কেন বলতে গেলি, কে এখন তোদের বাঁচাবে‌। আমাদের নিষেধ ছিলো তার (আলমগীর) এর নাম বলা যাবে না, তাহলে আমাদের জামিন করাবে কে। আমি ম্যাজিস্ট্রেট কে বলেছি এই কাজ করিয়েছে আলমগীর, এই নাম (আলমগীর ) বললে আমাদের বেশি বেশি মারে। আরেকটা কথা শোনেন, কয়েকদিনের মধ্যেই খোকা কে রিমান্ডে নিবে কিন্তু আলমগীর এর নাম বলবে না। ওরা আর একটা গেইম করতেছে। বিশ্বাস করেন আমি তার (খোকা) এর মাধ্যমে আসছি কিন্তু খোকা আলমগীর ভাই এর জন্য আমাদের নিয়ে আসছে‌। আর একটা কথা অনেক মানুষ ফাও ফাও ফেসে গেছে, উনারা আমাদের চিনতো না।

এই পাশ থেকে নিহত জাহাঙ্গীর এর স্ত্রী প্রশ্ন করেন, তোমাকে কি জেল থেকে নিয়ে আসছে, উত্তরে খুনি হেলাল বলেন ‘না না, আমি জেল থেকে আসি নাই। আমি ঢাকা থেকে আসছি। মিঠামইনে আমি ১৫-২০ দিন ছিলাম তারপর সব কিছু বুঝেছি কে করাচ্ছে, কে আনছে, কে টাকা দিয়েছে। আলমগীর ভাই এর একজন লোক ছিলো সে আমাদের খাওয়া দাওয়ার টাকা দিতো, লোকটার নাম মনে নাই কিন্তু উচ্চা, লম্বা, কালো ছিলো, সে অন্য এলাকার মেম্বার। রিয়াজ এর সাথে আলমগীর এর সরাসরি কথা হতো।

এই ফোনালাপের সত্যতা নিশ্চিত হতে যোগাযোগ করলে নিহত আলমগীর শিকদার এর স্ত্রী তাসলিমা আক্তার চৌধুরী রেকর্ড টা সঠিক নিশ্চিত করে জানান, আমাদের এলাকার একজনের মাধ্যমে আমার কাছে খবর আসে যে একজন আমার সাথে জেল থেকে কথা বলবে, সে ভাড়াটিয়া খুনি হেলাল। তারপরও কথা হয়, সে কিভাবে আসছে, কে আনছে সব কিছু বলে।

আলমগীর ভাড়া করে এনেছে এটা বলেছে। এইসব শোনার পর তাদের পারিবারিক মতামত কি এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আলমগীর যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এটা আমরা সবাই আগ থেকেই সন্দেহ করেছি। সবাই এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার চাচ্ছে। আলমগীর শিকদার এর সাথে কি আপনাদের যোগাযোগ আছে এই প্রশ্নের জবাবে বলেন, না’ আমাদের কোনো যোগাযোগ নাই, কোথায় আছে জানি না। তিনি জানান, প্রায় ১০-১১ দিন আগে খুনি জেল থেকে ফোন দিয়েছিল।

বিভিন্ন সূত্র এবং আলমগীর শিকদার এর ফেসবুক আইডি থেকে জানা গেছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে আলমগীর শিকদার দেশের বাইরে সুইজারল্যান্ডের আছেন। তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও তিনি জানান, এইগুলো ভিত্তিহীন। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। যে ছেলের ১৬৪ হয়েছে অনেকদিন আগে তার বক্তব্য এখন কিভাবে আসে। আমি জড়িত থাকলে আইনে ধরলো না কেন। আমি এখন দেশের বাইরে আছি আবার দেশে আসবো।

তিনি আরোও জানান, ‘যে ছেলে কথা বলেছে সে তো আমার নাম তো বলে নাই, খোকার নাম বলেছে তাহলে খোকা বলুক আমার নাম, আমি জড়িত। আমার ভাই এর বউ আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান সে তো এখন আওয়ামী লীগের টান টানবেই। আমার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করবে আমিও দেশে এসে সংবাদ সম্মেলন করবো।’